News

News
All news

Tuesday, August 2, 2016

মুক্তিযুদ্ধে বানিয়ারচর ক্যাথলিক চার্চের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা

লেখক নিকোলাস বিশ্বাস পটভূমি: যে কোন কিছু বর্ণনা করতে হলে সেটি একটু আগে থেকে বলতে হয়, তাই বাংলাদেশের ইতিহাস জানার জন্যেও একটু আগে গিয়ে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করা যেতে পারে। ব্রিটিশরা এই অঞ্চলটিকে প্রায় দুইশ’ বছর শাসন-শোষণ করেছে। তাদের হাত থেকে স্বাধীনতার জন্য হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছে, জেল খেটেছে, দ্বীপান্তরে গিয়েছে। ১৯৪০ সালে ‘লাহোর প্রস্তাব’-এ ঠিক করা হয়েছিল ভারত-বর্ষের যে অঞ্চলগুলোতে মুসলমান বেশী, সে রকম দুটি অঞ্চলকে নিয়ে দুটি দেশ এবং বাকি অঞ্চলটিকে নিয়ে আর একটি দেশ তৈরী করা হবে।
কিন্তু ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট যে এলাকা দুটিতে মুসলমানরা বেশী সেই এলাকা দুটি নিয়ে দুটি ভিন্ন দেশ না হয়ে পাকিস্তান নামে একটি দেশ এবং ১৫ই আগস্ট বাকি অঞ্চলটিকে ভারত নামে অন্য একটি দেশে ভাগ করে দেয়া হলো। পাকিস্তান নামে পৃথিবীতে তখন অত্যন্ত বিচিত্র একটি দেশের জন্ম হলো, যে দেশের দুটি অংশ দুই জায়গায়। এখন যেটি পাকিস্তান সেটির নাম পশ্চিম পাকিস্তান এবং এখন যেটি বাংলাদেশ তার নাম পূর্ব পাকিস্তান। মাঝখানে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্ব, এবং সেখানে রয়েছে ভিন্ন একটি দেশ ভারত। এরপর শুরু হয় পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) উপর পশ্চিম পাকিস্তানের (বর্তমানে পাকিস্তান) অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য, বিভেদ, বঞ্চনা আর ষড়যন্ত্র। ফলে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলন ও ১৯৬৬ সালের ‘ছয় দফা’র আলোকে ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেও পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে শাসনভার পাননি। পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে বঙ্গবন্ধু তখন স্বাধীনতার ডাক দেন এবং ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঘোষণা করেন: ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ঢাকার সোহরার্দি উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর এই স্বাধীনতা ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলার লক্ষ-কোটি মানুষ যার যা আছে তাই নিয়ে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবে শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। এ যুদ্ধে সারাদেশের ন্যায় এ অঞ্চলও স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং অকাতরে জীবন উৎসর্গ করে। এলাকার বয়োজেষ্ঠ্য ব্যাক্তিদের সাথে আলাপ-আলোচনা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে আহরিত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে অত্র এলাকার কিছু ঘটনা নিয়ে লেখাটি প্রস্তুত করা হল। তবে এখানে ঘটনাগুলোর দিন-ক্ষণের ক্রমানুসরণ করা সম্ভব হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধের শহীদ: বানিয়ারচর গ্রামের মাত্তা বাড়ীর স্বর্গীয় যোগিন্দ্র হালদারের ছেলে সুধীর হালদার এবং একই পাড়ার ঠ্যাটা বাড়ির স্বর্গীয় ধন্য বিশ্বাসের ছেলে ধৃতরাষ্ট্র বিশ্বাস এ দেশের দুইজন শ্রেষ্ঠ সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা যদিও সশস্ত্র যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেননি কিন্তু অকুতোভয়ে নিজ নিজ ধর্ম-বিশ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে নিমর্মভাবে শহীদ হন। ঐ সময় সুধীরের বয়স ছিল প্রায় ৩৫। তিনি ছিলেন তিন সন্তানের জনক এবং পেশায় ছিলেন কৃষক। অন্যদিকে ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন উদীয়মান একজন যুবক যিনি ঐ সময় এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ১৭-১৮। ঘটনার দিন তারা দু’জন মিলে ক্ষেতে তিল কাটতে গিয়েছিলেন। সময়টা ছিল সম্ভবতঃ ১৯৭১ সালের জৈষ্ঠ মাসের কোন একদিন। তিল কেটে তারা নৌকায় করে দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। খালের পাশে মাত্তা বাড়ির ঘাটে তারা তাদের তিল বোঝাই নৌকাটি রাখেন এবং নৌকা থেকে তিল নামানোর প্রস্তুতি নেন। ইতিমধ্যে পাক-বাহিনী বানিয়ারচর গ্রামে ঢুকে পড়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি হিন্দুদের খুঁজতে থাকে। ততক্ষণে গোটা গ্রামের মানুষ ক্যাথলিক মিশন সহ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু সুধীর ও ধৃতরাষ্ট্র আশ্রয় নিতে পারেননি। তারা পাক-বাহিনীর সামনে পড়ে যান। ধর্ম-বিশ্বাসের কথা জিজ্ঞেস করতেই তারা অকপটে নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দেন। আর তখনই পাক-বাহিনী তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও বন্দুকের বেওনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাদের হত্যা করে। অজ্ঞাতনামা পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা: বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, বীর বিক্রম হেমায়েত উদ্দীনের নেতৃতে¦ গঠিত হেমায়েত বাহিনীতে বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশনের মোট পাঁচ জন সদস্য সশস্ত্র মু্িক্তযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের নাম-পরিচয় জানা না গেলেও তাদের একটি দূর্লভ ছবি পাওয়া গেছে। ছবিটি এখানে প্রকাশ করা হল। বিমান হামলা: ফাদার আন্তনের সময় ক্যাথলিক মিশনের সহায়তায় এলাকার মৎস্যচাষীদের মাছ খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পাঠানোর জন্য কয়েকটি লঞ্চ তৈরী করা হয়। লঞ্চগুলোর নাম ছিল এদেশের মুক্তির সংগ্রামের সঙ্গে বেশ সাযুয্যপূর্ণ; যেমন: সংগ্রামী বংলা, স্বাধীন বাংলা, মুক্ত বাংলা ও সোনালী বাংলা। এরমধ্যে সংগ্রামী বাংলা লঞ্চটি মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার সরবরাহের জন্য মাঝে মাঝে ব্যবহৃত হোত। অজ্ঞাতনামা পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা অজ্ঞাতনামা পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা গোপালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় একদিন একজন রাজাকার (পাক-বাহিনীর এদেশীয় দালাল) বিষয়টি দেখে ফেলে এবং পাক-বাহিনীকে জানিয়ে দেয়। এরই জেরে যশোরে অবস্থিত পাকিস্তান সৈন্যদের বিমান-বাহিনী বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশনের লঞ্চগুলো ধ্বংস করার জন্য বিমান হামলা চালায়। লঞ্চগুলো তখন মিশন-ঘাটেই অবস্থান করছিল এবং এগুলোর মধ্যে মাত্র একটি লঞ্চ সেদিন ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সৌভাগ্যবশতঃ সেদিন বিমানের ক্যান্টেন আমাদের এলাকার কোন লোকালয়ে বিমান হামলা চালাননি। ফাদার রিগন ঐ সময় যশোরের ক্যাথলিক মিশনের ফাদারদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, ঐ বিমানের ক্যান্টেন ছিলেন পাকিস্তান বংশোদ্ভূত একজন ক্যাথলিক খ্রীষ্টান। তাই তিনি যখন বানিয়ারচরের উপর দিয়ে তার বিমানে চক্কর দিচ্ছিলেন তখন ক্যাথলিক চার্চের ঘন্টাঘরের উঁচূ চূঁড়ায় রাখা বিশাল আকৃতির ক্রুশ-চিহ্ন দেখে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এলাকাটি খ্রীষ্টান-অধ্যূষিত। তাই তিনি সেদিন তার বিমানের গুলিগুলো নদীর মাঝখান দিয়ে ফেলে যান যাতে কারো কোন ক্ষতি না হয়। আরো জানা গিয়েছিল যে, যশোর ঘাঁটির ঐ বিমানের নম্বর ছিল ২০। পাক-বাহিনীর গানবোট ও হামলা পরিচালনা: যুদ্ধের সময় প্রতিটি দিনই ছিল এক একটি বিভিষিকাময় মুহুর্ত। আমাদের এলাকাটি কৃষিপ্রধান। তাই দুপুর হলেই কৃষাণ-কৃষাণীরা ক্ষেত-খামার থেকে বাড়ি ফিরতো। তখন পাক-হানাদার বাহিনী আমাদের এলাকায় হামলার জন্য এই সময়টাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেছে নিত। মধুমতি বিলরুট ক্যানাল নদী দিয়ে পাক-বাহিনী তাদের গানবোটগুলো নিয়ে আমাদের এলাকায় হানা দিতো। তাই কোনভাবে গানবোটের শব্দ শুনলেই এলাকার মানুষ দলে দলে মিশনে আশ্রয় নিতো। ঐ সময় মিশনের দায়িত্বে ছিলেন জাভেরিয়ান ফাদার সম্প্রদায়ের সদস্য রেভাঃ ফাদার মারিনো রিগন এসএক্স এবং রেভাঃ ফাদার লুচিও চেচ্চি এসএক্স মাঝে মাঝে এসে ফাদার রিগনকে সাহায্য করতেন। তারা দু’জন ঐ সময় আমাদের এলাকায় দেবদূতের ভূমিকা পালন করেছেন। অসহায় ভয়ার্ত মানুষের পাশে থেকে তারা যুগিয়েছেন সাহস, উদ্দীপনা আর জ্বালিয়ে রেখেছিলেন আশার আলো। তারা তখন ক্ষুধার্থ মানুষের খাবারও যুুগিয়েছেন এবং দিয়েছেন অসুস্থ্য মানুষ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুচিকিৎসা। দেবদূততুল্য ফাদার মারিনো রিগন: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে যেসব বিদেশি পুরোহিত (ফাদার) ছিলেন তারা অনেকেই নিজ দেশে ফিরে যান। ফাদার মারিনো রিগনকেও ইতালিতে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল তার দেশ ইতালি এবং ছুটি নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল তার ধর্মীয় মিশন। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। বাংলাদেশিদের বিপদ দেখে তিনি চলে যাননি নিরাপদ আশ্রয়ে। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় ফাদার রিগন আমাদের বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশনে অবস্থান করেছেন। সেখানে ক্যাথলিক মিশনের প্রধান পুরোহিত হিসাবে কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে ফা. রিগন বঙ্গবন্ধুর সাথে ফা. রিগন ২০০৬ সালের ২৮শে নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত স্মারক সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ফাদার রিগন যুদ্ধের সময় তার লেখা একাত্তরের দিনলিপি ও তার তোলা আলোকচিত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে দান করেন। ফাদার রিগনের স্মারকগুলো গ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধের তৎকালীন উপপ্রধান সেনাপতি ও ভেতরে-বাইরে বইয়ের লেখক এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার। একাত্তরের দিনলিপিতে ফাদার মারিনো রিগন লেখেন, ১৯৭১ সালের ১২ জুন সকাল ৮টায় ২৩ জন মিলিটারি নিয়ে একটা লঞ্চ জলিরপাড়ে ভিড়ল। তাদের সঙ্গে কয়েকজন বাঙ্গালিও ছিল। সৈন্যরা সমস্ত বাজার আগুন দিয়ে পোড়াল। শুধু বাজার নয়, তারা গ্রামে গ্রামে ঢুকে কলিগ্রামের ৫০টি, জলিরপাড়ের ১৮টি এবং বনগ্রামের ২৬টি বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিল। বাজারে একজন ক্যাথলিক খ্রীষ্টানকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল। কলিগ্রামের পাষাণের ছেলে রবিদাস কোনো মতে জীবন বাঁচালো। তারা কলিগ্রাম অক্সফোর্ড মিশনের সামুয়েল বিশ্বাসকেও আঘাত করলো। বনগ্রামে মিলিটারিরা ৪ জনকে হত্যা করে। শিশির, তন্ময়, উপেন দাস, বাবু মালাকার, নারায়ণ বাড়ৈ এবং আরো অনেককে আহত করল। বিকেলে তারা ধ্বংসযজ্ঞ শেষ করে ৬টি খাসি ও অনেক জিনিসপত্র নিয়ে গ্রাম ত্যাগ করল। এই বীভৎস্য ধ্বংসযজ্ঞের পর আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দেখতে গেলাম। কী করুণ সে আর্তনাদ। বাঁচার জন্য মানুষের কী আকুতি……। মেষপালক ফাদার লুচিও চেচ্চি: যুদ্ধকালীন সময়ে একদিন দুপুর বেলা পাক-হানাদার বাহিনী তাদের গানবোট নিয়ে আমাদের গ্রামে হানা দেয়। গানবোটটি বর্তমান কারিতাস অফিসের কাছে রেখে তারা গ্রামে ঢুকে পড়ে। ঐ সময় গানবোটের শব্দ শোনামাত্র ক্যাথলিক মিশনের বড় ঘন্টাগুলো খুব বাজানো হোত যেন এলাকার জনগণ দ্রুত মিশন বাড়ি চলে আসে এবং আশ্রয় নেয়। ঐদিন সবাই মিশনে আশ্রয় নিলেও বানিয়ারচরের মিস্ত্রী বাড়ির দুই জন নারী আসতে পারেননি। এ সংবাদ শোনামাত্র ফাদার লুচিও চেচ্চি দ্রুত মিস্ত্রী বাড়ি ছুটে যান কিন্তু ততক্ষণে পাক-বাহিনী ঐ বাড়ি গিয়ে নারীদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্ধত হয়। এমতাবস্থায়, ফাদার চেচ্চি পাক সেনাদের সঙ্গে যুক্তি-তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পাক সেনারা ফাদারের গায়ে হাত তোলে। তারপরও ফাদার নাছোড়বান্দা। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুনয়-বিনয় ও অপমানিত হয়ে ফাদার চেচ্চি পাক-বাহিনীর হাত থেকে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে মিশনে নিয়ে আসেন। বিভিষিকাময় যুদ্ধের দিনগুলোতে ক্যাথলিক মিশনের ফাদার ও সিস্টারগণ আমাদের প্রতি যে প্রকৃত মেষপালকের ভূমিকায় ছিলেন এটি তারই একটা উদাহরণ। এজন্য ফাদার ও সিস্টারদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বিশপ দান্তের ক্রুশ: আমার বাবা তুফান বিশ্বাস তখন মাছের ব্যবসা করতেন। চারিদিকে যখন হাহাকার, অনিশ্চয়তা এবং জীবনের ঝূঁকি তখন একটা বড় ক্রুশ (প্রায় ৯ ইঞ্চি লম্বা) তিনি সহ তার সহকর্মীদের জীবন-জীবিকাকে দিয়েছিল নিরাপদ আশ্রয়। ঐ ক্রুশটি তিনি পেয়েছিলেন খুলনা ধর্মপ্রদেশের প্রথম ধর্মপাল বিশপ দান্তে বাত্তাগ্লিয়েরিণ এসএক্স। দেশে তখনও যুদ্ধ শুরু হয়নি। এটা সম্ভবতঃ ১৯৬৯/১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাস। একদিন ফাদার আন্তন চকসিং থেকে ফেরার পথে অনেকগুলো পাখি শিকার করেন। ঐ পাখিগুলো তিনি আমার বাবাকে দিয়ে খুলনার বাবুখান রোডে অবস্থিত সেন্ট যোসেফস্ ক্যাথিড্রালে বসবাসরত বিশপ দান্তের কাছে উপহারস্বরূপ পাঠান। খুলনা থেকে ফিরে আসার সময় বিশপ দান্তে বাবাকে ঐ ক্রুশটি দিয়েছিলেন। বাবাও ক্রুশটি পরম যতেœ রেখেছিলেন। যুদ্ধকালীন সময়ে বাবা যখনই মাছ কেনা-বেছার জন্য বাইরে যেতেন তখনই তিনি ঐ ক্রুশটি গলায় পড়ে নিতেন। আবার নিরাপদে ফিরে আসতেন। একবার তিনি ক্রুশটি ভূলবশতঃ সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেননি; এজন্য তাকে বড় রকমের খেসারতও দিতে হয়েছিল: সেবার পাক মিলিটারিদের ভয়ে মাছ ভর্তি নৌকা মাঝ-পথে ডুবিয়ে দিতে হয়েছিল। টিনের তৈরী ক্রুশের ব্যবহার: মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে প্রতিবেশী দেশ ভারত আমাদের প্রতি অকুন্ট সমর্থন ও সহমর্মীতা প্রকাশের পাশাপাশি নানাভাবে সহযোগিতা প্রদান করে। এজন্য পাক-হানাদার বাহিনী হিন্দুদের প্রতি প্রবল আগ্রাসী হয়ে ওঠে এবং তাদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করায় এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ঢাকায় অবস্থিত খ্রীষ্টান দেশগুলোর দূতাবাসের তীক্ষè নজরদারীর কারণে পাক-বাহিনী খ্রীষ্টানদের প্রতি ততটা আগ্রাসী ছিল না। এজন্য যখনই পাক-হানাদার বাহিনী আমাদের এলাকায় হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে এসেছে ততবারই তারা মুক্তিযোদ্ধা সহ হিন্দুদের উপর আক্রমণ করেছে এবং তাদের হত্যা করেছে। এমতাবস্থায়, গ্রামের খ্রীষ্টভক্তগণ হিন্দু ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ান এবং বিভিন্ন ঘরের চালের টিন কেটে তা দিয়ে ক্রুশ বানিয়ে তাদেরকে দেন যাতে হানাদার বাহিনীকে এটা বুঝানো যায় যে, এরা সবাই খ্রীষ্টান। অনেকে আবার ঘরের চালে টিনের ক্রুশ বানিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন যাতে বুঝানো যায় যে, এটি খ্রীষ্টানদের বাড়ি। তখন একটা ক্রুশের জন্য অনেক দূর থেকে অখ্রীষ্টান লোকেরা খ্রীষ্টান ধর্মানুসারীদের কাছে আসতেন এবং ক্রুশের চিহ্ন করা শিখতেন। বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা গ্রহণ: দিনের আলোতে ফাদার মারিনো রিগন একজন পুরোহিত হলেও রাতের আঁধারে বনে যান একজন পুরোদস্তুর মুক্তিযোদ্ধা। বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশনে একটা ছোট চিকিৎসাকেন্দ্র (ডিসপেন্সারী) আছে যা এখনো আপামর জনসাধারণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। রাত গভীর হলে আহত মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে আসতেন। ফাদার রিগন নিজে উপস্থিত থেকে তাদের চিকিৎসা সেবা দিতেন। ফাদার রিগন সারারাত দাঁড়িয়ে থেকে মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দীনকে চিকিৎসা সেবা দেন ফাদার রিগন সারারাত দাঁড়িয়ে থেকে মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দীনকে চিকিৎসা সেবা দেন খাবার এবং আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতেন। অবসর সময়ে লিখতেন একাত্তরের দিনলিপি। একাত্তরের ১৪ জুলাই মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় বৃহত্তম গেরিলা বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দীন রামশীলের সম্মুখযুদ্ধে মুখম-লে গুলিবিদ্ধ হন। গুলির আঘাতে তার ১১টি দাঁত ও চোয়ালের একটা অংশ খসে যায়। জিহ্বার একটি টুকরোও সেই সঙ্গে উড়ে যায়। ওই যুদ্ধে পাক-বাহিনীর মোট ১৫৮ জন সেনা নিহত হয়। মারাত্মক আহত অবস্থায় হেমায়েত উদ্দীনকে তার সহযোদ্ধারা নিয়ে আসেন মিশনের চিকিৎসাকেন্দ্রে। ফাদার রিগন সারারাত দাঁড়িয়ে থেকে হেমায়েত উদ্দীনকে চিকিৎসা সেবা দেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধের সময় হেমায়েত উদ্দীন ভারতে না গিয়ে ৫৫৫৮ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্পূর্ণ স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ দেন এবং পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যুদ্ধের পর তাকে বীর বিক্রম উপাধি দেয়া হয়। তার গেরিলা বাহিনী খুলনা, বরিশাল, মাদারিপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর এবং গোপালগঞ্জ অঞ্চলে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছে। বীর বিক্রম হেমায়েত উদ্দীন এখনো ফাদার মারিনো রিগনকে দেবতুল্য জ্ঞান করেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সম্মুখ যুদ্ধে প্রচ-ভাবে আহত হওয়ার পর আমার জীবন সায়াহ্নে উপরে ছিল ঈশ্বর আর নীচে ছিল ফাদার মারিনো রিগন। ফাদারের অকৃত্রিম সেবা-যতেœ আমি ঐ সময় নিশ্চিৎ মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসি আর এখনো বেঁচে আছি। ফাদার মারিনো রিগনের কথা শুনে তিনি আবেগ-আপ্লূত হয়ে পড়েন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফাদারের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন। পুকুরপাড়ে আশ্রয় গ্রহণ: জন্ম তারিখ (৯-৯-১৯৬৭) অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল মাত্র ৪ বৎসর। তাই তখনকার কিছু কিছু ঘটনা আমার বেশ মনে আছে। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ি আমাদের গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় হওয়ায় এ অঞ্চলে পাক-হানাদার বাহিনীর অমানুষিক নির্যাতন চলে। চলে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ, লুন্ঠন ও বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়া সহ আরো অনেক অনাচার। গ্রামাঞ্চলের মানুষ তখন প্রাণ ভয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করেছেন। যে যেখানে পেরেছেন আশ্রয় নিয়েছেন। তখন এ কথা সবাই জানতো যে, পাক সেনারা সাঁতার কাটতে জানে না। এজন্য আমার দাদু আমাদের সবাইকে কলিগ্রামে তার বাড়িতে নিয়ে যান। কলিগ্রাম মহিষতলি বিলের ঠিক মাঝখানে মামাদের বড় বড় দুটি পুকুর আছে। সেই পুকুর পাড়ে আগে থেকেই মামাবাড়ির লোকজন বাঁসের তৈরী বায়না ও বিছালি দিয়ে ঢিবিরি মত করে থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। তখনও বিলে অনেক পানি। তাই নৌকায় চড়ে আমরা সেখানে যাই আর আশ্রয় নিই। আমার বেশ মনে আছে যে, তখন আমার দাদু ও মামারা তাদের পুকুরের মাছ ধরতো আর তা তিন বেলা খাওয়া হোত। মাঝে মাঝে রাতের বেলা দাদু বাড়ি গিয়ে ঘর-বাড়ির অবস্থা দেখে আসতেন। এ ছাড়াও আমরা ঐ সময় একবার নৌকাযোগে কদমবাড়িতে অবস্থিত এক আতœীয়-বাড়ি আশ্রয়ের জন্য গিয়েছিলাম। এলাকার যুবকদের প্রশংসনীয় ভূমিকা: আমাদের এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা তখন উদীয়মান যুবক ছিলেন এবং লেখা-পড়া করছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জ্ঞানরঞ্জন হীরা, প্রবাস হীরা, মাখন হালদার, রুহিদাস হালদার, মহেন্দ্র হালদার, অমর বৈরাগী, যতিশ সরদার, বিভুদান বৈরাগী, রবীন বাড়ৈ, কেশব বালা, নীরু ম-ল এবং আরো অনেকে। মাখন হালদার তখন বন্দুক ধরণের কিছু একটা নিয়ে এলাকায় অন্যদের নিয়ে টহল দিতেন। অন্যদিকে মহেন্দ্র হালদার, জ্ঞানরঞ্জন হীরা ও প্রবাস হীরা সহ অন্যরা এলাকায় পাক সেনাদের গানবোট আসলো কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতেন এবং গ্রামের মানুষকে সতর্ক করতেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ অল্প অল্প উর্দূ ভাষা জানতেন। ফলে তারা সহজেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাক সেনাদের বোকা বানাতে পারতেন। যেমন: হিন্দুদের খ্রীষ্টান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, এ অঞ্চলকে খ্রীষ্টান এলাকা হিসেবে প্রমাণ করা ইত্যাদি। এরূপ আরো অনেক ঘটনা আছে যেখানে তারা সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে কেউ কেউ এটিকে ভিন্নভাবে বলার চেষ্টা করেন। এ রকম একই ভূমিকা নিয়েছিলেন কলিগ্রামের পশ্চিম পাড়াস্থ ব্যাপ্টিষ্ট চার্চের সদস্য স্বর্গীয় শান্তিরঞ্জন বৈরাগী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় একদিন পাক-বাহিনী কলিগ্রামে আক্রমন চালায় এবং বহু ঘর-বাড়ি জ¦ালিয়ে দেয়। হামলা চালাতে চালাতে সেনারা পশ্চিম পাড়ায় গিয়ে হাজির হয় এবং শান্তিরঞ্জন বৈরাগী’র বাড়ির উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত স্বর্গীয় খগেন্দ্রনাথ বৈরাগী’র বাড়িতে আগুন দিতে উদ্দ্যত হয়। এরূপ অবস্থায় ¯শান্তিরঞ্জন বৈরাগী দৌড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হন এবং পাক সৈন্যদের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে বলতে থাকেন: ‘এ খ্রীষ্টান বাড়ি হায়’। তখন সঙ্গে সঙ্গে পাক-বাহিনী আগুন দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং যতটুকু আগুন দিয়েছিল তা নিভিয়ে ফেলে। মিশন ও গীর্জায় আশ্রয়দান: প্রভুর গৃহ সবার জন্য উন্মুক্ত। কথাটির মর্মার্থ আরো বেশী দীপ্তমান হয়ে উঠেছিল যখন এ দেশের মানুষের উপর বর্বর পাক-হানাদার বাহিনীর মরণাঘাত এসেছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ি এ অঞ্চলে হওয়ায় এখানকার মানুষের উপর নির্যাতনের মাত্রা অনেক বেশী ছিল। এজন্য এ এলাকার সাধারণ জনগণ ছিল খুবই অসহায় ও বিপদাপন্ন। তখন প্রায়ই পাক-সেনারা এলাকায় হানা দিতো। এ সময় বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশনের ফাদার ও সিস্টারগণ দেবদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং প্রকৃত মেষপালকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যখনই এলাকার মানুষ বিপদাপন্ন হয়েছে তখই তারা আপামর সকল হিন্দু-খ্রীষ্টান জনগণের জন্য চার্চের দরজা খুলে দিয়েছিলেন এবং তাদের যতœ নিয়েছিলেন। চার্চ যখন লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠতো তখন তারা মিশন ক্যাম্পাসের রাইস মিলটি জনগণের জন্য খুলে দিয়েছিলেন। অসহায় মানুষেরা তখন চার্চে ও মিশন ক্যাম্পাসে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিল। এলাকায় পাক-বাহিনীর গাটবোটগুলোর আসার শব্দ শোনা মাত্র ক্যাথলিক মিশনের গীর্জার বড় বড় ঘন্টাগুলো বেজে উঠতো যাতে এলাকার মানুষগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যেতে পারেন এবং মিশনে সময়মত চলে আসতে পারেন। এই ঘন্টাগুলো তখন দারুন কাজ করেছিল। বুড়াবুড়িদের ঘর-বাড়ি পাহারা: গীর্জার ঘন্টা-ধ্বনি শুনে যখন লোকজন বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় ও মিশন বাড়িতে আশ্রয় নিতো তখন বাড়িগুলোর পাহাড়ায় থাকতো বাড়ির বৃদ্ধ-বৃদ্ধাগণ। তারা নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করতেন। পাক-বাহিনীর সদস্যরা এদের উপর কোনরূপ ঝামেলা করতো না। মা’র কাছে শুনেছি যে, আমাদের বাড়ির পাশে হালদার বাড়ি পাহারা দিতেন স্বর্গীয় রবি হালদার ও তার স্ত্রী, আমাদের বাড়িতে থাকতেন আমার স্বর্গীয় ঠাকুর মা, সাহা বাড়ি পাহারা দিতেন স্বর্গীয় সতীশ সাহা ও তার স্ত্রী। এভাবে প্রত্যেক বাড়িতেই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাগণ অবস্থান করতেন এবং সব কিছু দেশে-শুনে রাখতেন। পাক সেনারা যখন বাড়ি বাড়ি হানা দিতো তখন বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের তারা ধমকের সুরে বিভিন্ন কথা জিজ্ঞেস করতো এবং বাড়ি থেকে এটা ওটা (যেমন: ছাগল, ভেড়া, মুরগি সহ গাছের ডাব ও নারকেল) নিয়ে যেতো। একদিন দুপুর বেলা মা তখন ভাত রান্না করছিলেন এমন সময় গীর্জার ঘন্টা বেজে উঠলো। মা তাড়াতাড়ি ভাতের পাতিল মাড় ঝড়ানোর জন্য উবুড় করে রেখে অন্য সবার সঙ্গে মিশন বাড়ি চলে যান। ফিরে এসে দেখেন ভাতের পাতিল ঠিক যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই আছে। বাড়ির কুকুর ও বিড়ালগুলোও তখন মানুষের পাশে থেকে সহানুভূতি প্রকাশ করেছিল। সেগুলো মানুষের কোনরূপ ক্ষতি সাধন করতো না। উপসংহার: মধুমতি বিলরুট ক্যানেল বিধৌত বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশন মুক্তিযুদ্ধের সময় যে গৌরবোজ্জল ভূমিকা পালন করেছে সেজন্য আমরা সবাই আমাদের মিশনের জন্য গর্বিত। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এবং স্বাধীনতার পরবর্তীতে যে সকল জাভেরিয়ান ফাদার ও এসএমআরএ সিস্টারগণ নিজেদের জীবন মানুষের সেবায় বিলিয়ে দিয়েছেন তাদের সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আশা করি নতুন প্রজন্ম আমাদের ক্যাথলিক মিশনের অতীত ইতিহাসে গর্ববোধ করবে এবং নিজ নিজ ধর্ম পালনে আরো বিশ্বস্ত হবে। সৌজন্যেঃ নিকোলাস বিশ্বাস।

No comments:

Post a Comment