The Bangladesh daily news, news stories and news articles are published mainly of Bangladesh news.
News
All news
Sunday, July 31, 2016
মৌলভীবাজারে ১৮ বছরের নিচে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ
১৮ বছরের নিচে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন। এসব শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল পাওয়া গেলেই পুলিশ ওইসব সামগ্রী জব্দ করে থানায় নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের মার্কেট, রেল স্টেশন, বাস স্টেশন ও অলিগলিতে অযথা ঘোরাঘুরি করতে পারবে না বলেও জানায় জেলা প্রশাসন। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মাদ শাহীন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধসহ বাড়িতেও এ ব্যাপারে দেখভাল করতে অভিভাবকদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। মোবাইলের পাশাপাশি ফেসবুকেও আসক্তি বাড়ছে ছাত্র-ছাত্রীদের। এগুলো শিক্ষার ওপর বিরূপ ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অভিভাবকরা মনে করছেন, সন্তানকে মোবাইল দিয়ে কখন কোথায় আছে খোঁজ নেবেন। সে তাদের মুঠোবন্ধি হয়ে আছে। অভিভাবকরা ভুল মনে করছেন। বরং মোবাইল দিয়ে সন্তানকে তাদের কাছ থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছেন। তারা একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, তার সন্তান যখন মোবাইল ব্যবহার করে সে উদাসীন হয়ে যায়, সে কোথায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছে পরিবারের কেউ ভাবতেও পারছেন না। হয়তো অভিভাবকরা মনে করছেন, তাদের সন্তানরা মোবাইলে গেম খেলছে। তারা একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবে সে কিসে ডুবে আছে। সে শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার, ইমো তে নেই, একটু খেয়াল করলেই দেখবেন সে ইউটিউব, গুগল ইত্যাদি মাধ্যমে প্রবেশ করে। এতে পরিবারের সন্তানরা নিজেদের অজান্তে ভুল পথে পা বাড়ায়, তখন সে পরিবারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মোবাইলের অপব্যবহারের কারণে ছাত্ররা ইভটিজিং, বখাটেপনাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তাই সমাজের পরিবেশ শান্ত রাখতে ১৮ বছরের নিচে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহার থেকে দূরে রাখুন।
সৌজন্যেঃ কালের কণ্ঠ।
This will save the children life. It is a good initiative by the Moulovibazar DC. Let all the DC take the initiatives.
Need program as:
1. Awareness at School level;
2. Awareness to Parents;
3. Initiate the cultural program and sports frequently.
কল্যানপুর অভিযান-বিতর্ক্ ও বিশ্লেষণ
কল্যানপুর জঙ্গী আস্তানায় অভিযান নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছে, সন্দেহ প্রকাশ করছে, তর্ক-বির্তক হচেছ্। কিন্তু আমি এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত নয় যে আসলে কি সন্দেহ। বিতর্ক হচেছে। এটা কেন এমন হলো, ওটা কেন এমন হলো না, এটা কেন বলল, পোষাক কেন এমন ছিল, পিঠে কেন গুলি লাগল, হাতে কেন ছুরি ছিল, জঙ্গিরা কেন বাইরে গ্রেনেড চার্জ করে নাই, রাতে কেন অভিযান হলো না ইত্যাদি আরে কতো প্রশ্ন। আসলে এ প্রশ্নগুলো সৃষ্টি করে প্রশ্নকারীরা আসলে কি বলতে চাইছে বা বুঝাতে চাইছে তা কি কারো কাছে পরিষ্কার কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না। মাথামোটা এবং গোবর গণেশ কিছু বুদ্ধিমান, কিছু জঙ্গীদের সহায়তাকারীরা এটা করছে। এমন লোকেরাতো প্রশ্ন করবেই।
গ্রামে থাকতে ছোট বেলায় মাঝে মাঝে বড়রা যখন কথা বলতেন, তাস খেলতেন বা কোন জায়গায় বসে কথা বলতেন, বা কোন জায়গায় বিচার হচ্ছে সেখান থেকে অনেক উদাহরন শোনতাম। অনেক ভুলে গেছি আর কিছু কিছু আবছা মনে আছে। কোন এক জায়গায় এমনই একটা উদাহরণ শুনেছিলামঃ
গ্রামে কারো নতুন বিয়ে করা বউকে নিয়ে যখন বাড়ী থেকে বের হয় তখন বউকে সমেনে হাটতে দিয়ে স্বামী পিছনে থাকলে লোকে বলে বউকে বেশী প্রধান্য দিচ্ছে। আবার যদি বউ এর সাথে সাথে (সমানে সমান) হাটে তবে বলে দেখ পিরিত কতো বা বউটা কত বেহায়া স্বামীর সাথে সাথে হাটে - সম্মানবোধ বলতে কিছু নাই। এই বউ ছেলেটার মাথা একদিন খাবে। এ রকম নানা কথা। আবার যদি বউকে পিছনে রেঝে হাটে তবে আবার কিছু কিছু লোক বলে যে পিছনে থেকে বউ হারিয়ে যাবে। স্বামটিা কি বলদ। অথবা বউ পিছনে বসে কারে সাথে কথা বলবে বা বলছে। গল্পটির মূল শিক্ষণীয় হলোঃ
সামনে হাটলে দোষ, সাথে হাটলে দোষ আবার পিছেনে হাটলেও দোষ। তো ঐ বউ বা স্বামী যাবে কোথায়? তাই আমি বা আমরা লক্ষ করছি যে কল্যানপুর অভিযান কে আমাদের কিছু বুদ্ধিজীবি (?) মাথা মোটা লোক যারা সমাজে নিজেদের অনেক জ্ঞানী বলে মনে করে তার আসলে কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক তাই-ই মনে হয় বুঝে উঠতে পারে না। আর অযথা একটা তর্ক্ বাধিয়ে দেয় আর দূরে বসে খেলা দেখে আর মিটিমিটি হাসে আর ভাবে কাম একখান কইরা ফ্যালাইছি।
আমাদের দেশের এক শ্রেনীর বুদ্ধিজীবি (?) বা কিছু রাজনৈতিক দল বা নেতারা যা বলছেন এবং কল্যানপুর অভিযান নিয়ে যেসব প্রশ্ন অবতারণা করছেন তা দেখলে ও শুনলে বড় কষ্ট হয়। তারা অভিযান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের অবতারনা করছেন। যেমন এক সময়ের একটি বড় রাজনৈতিক দলের পতিত নেতা তো বলেই বসেছেন যে জঙ্গী মারা গেছে নাকি সাধারন মানুষ তা তিনি ষ্পষ্ট নয়। তার কাছে আমার উল্টা প্রশ্ন ‘যারা মারা গেছে তাদের তো আপনিও দেখেছেন, তাতে কি আপনার মনে হয় হয়েছে যে ওরা জঙ্গি না? আর যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তাদের কারো পরিবার কি দাবী করেছে যে তার ছেলে জঙ্গী না? বা কোন পরিবার কি এখনো পর্যন্ত দাবী করেছে যে তাদের ছেলেকে ঘর থেকে তুলে এনে ওখানে গুলি করে মারা হয়েছে? কই এমন দাবীতো কেউই এখন পর্যন্ত করে নাই। বরং প্রত্যেকেই বা প্রত্যেকটি পরিবারই দাবী করেছে যে তাদের ছেলেরা তাদের পরিবার থেকে বেশ কয়েক মাস থেকেই বিচ্ছিন্ন বা নিখোঁজ। তো জনাব হান্নান সাহেব আাপনার কিভাবে মনে হলো যে যারা মারা গিয়েছে তারা জঙ্গী নয় সাধারণ মানুষ? আপনাকে শুধু বলতে চাই যে যা কিছু বলবেন চিন্তা করে বলবেন হাস্যকর বা জাতি বিভ্রান্ত হয় এমন কিছু বলবেন না। আর এটাও মনে রাখবেন আপনাদের কথায় বেশীর ভাগ মানুষই বিশ্বাস করে না।
কেউ কেউ বলছেন যে এটা একটা নাটক। এতে নাটকের কি আছে তা অন্তত আমার শুধু আমার নয় অনেকেরই বোধগম্য নয়। দয়া করে যদি আপনার নাটকটি কি ষ্পষ্ট করে বলেন তবে হয়তো জাতি বড়ই উপকৃত হবে। নাটক বলতে কি বুঝিয়েছেন? ওখানে কি কোন জঙ্গী ছিল না? নাকি ওদের বাইরে থেকে গুলি করে ওখানে আগে থেকেই রেখে এসেছিল? আসলে নাটক বলতে কি বলতে চেয়েছেন তা জাতির কাছে ষ্পষ্ট নয়। জাতি আপনাদের নাটকের কথা জানতে চায়। আর যদি তা প্রমাণ করতে না পারেন তবে দয়া করে এই বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের জন্যে জাতির কাছে মাফ চান, ক্ষমা চান, আর কান ধরে প্রতিজ্ঞা করেন যে ভবিষ্যতে এমন অর্বাচীন বক্তব্য দেবেন না।
পোষাক নিয়ে কথা বলেছেন। বেশ ভাল কথা। যখন রাত ১২/১২:৩০ টার দিকে প্রথম পুলিশ তল্লাশীতে যায় তখন প্রথম গোলাগুলি হয় এবং একজন পুলিশ আহত হয়। তো যারা প্রশ্ন করেছেন যে জঙগীদের কি রাতের পোষাক কালো পাঞ্জাবী আর পায়জামা কিনা? এটা কোন প্রশ্ন হলো? জঙগীরা কখন কি পড়বে না পড়বে তাকি পুলিশের কাছে লিষ্ট পাঠিয়েছে নাকি? আপনারা যারা প্রশ্ন করছেন তাদের যদি জানা থাকে তবে বলেন যে ওদের তো এখন বা তখন ঐ পোষাক পড়ার কথা ছিল না। তবে কেন ঐ পোষাকে? আর আপনি যদি জানেন যে তারা কখন কোন পোষাক পড়বে তো আপনি বলেন। ওঃ আপনি বা আপনারা যারা প্রশ্ন তুলেছেন তারাতো আর এতো বোকা না যে বলবেন। তাহলেতো আপনাদের রূপ ধরা পড়ে যাবে। তবে আমার বিশ্বাস আপনারা জানলেও জানতে পারেন। তা নাহলে প্রশ্ন করবেন কেন? আর প্রথম আক্রমণের পরে জঙ্গীরা অনেক সময় পেয়েছে। ঐ সময় তারা একই পোষাক সবাই পড়তে পারে। নাকি আপনি মনে করেছেন যে ঐ সময় (প্রথম আভিযানের পরে) তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছে? আপনি/আপনারা (প্রশ্ন সৃষ্টিকর্তারা) মনে করলেও সাধারন মানুষ কিন্তু তা মনে করে না। কারন এরকম পরিস্থিতিতে তারা নিশ্চয় নিজেদের বাঁচাতে চেয়েছে (যার প্রমাণ ২ জনের পলায়নের চেষ্টা), নানা মিটিং করেছে, নানা ফন্দি এঁটেছে, নানা কৌশল আবিস্কার করেছে, অনেক জায়গায় (হয়তো আপনাদের নিকট ফোনও করেছে) আরো কত কি? কাজেই তারা যে ঘুমিয়ে ছিল না বা ঘুমিয়ে সময় কাটায় নাই এটা কিন্তু একটা ৭ বছরের শিশুও বুঝে। তাই তারা ঐ সময়ে একটা নির্দিষ্ট পোষাক পড়তেই পারে এটাই স্বাভাবিক। নাকি আপনার বলতে চান যে পুলিশ তাদের আগে থেকেই পোষাক সরবরাহ করেছিল? আরে পুলিশ যদি এমন একটা পরিস্থিতিতে পোষাক বা কাপড় সরবরাহ করেই থাকে তবে তা করবে সাদা কাপড়। কেন কালো পায়জামা আর জিন্স প্যন্ট সরবরাহ করবে? আর আপনাদের যদি এমনটা মনে হয় তবে বলেন কোন দোকান থেকে পুলিশ তা কিনেছে এবং কখন কিভাবে কার মাধ্যমে সেগুলো জঙ্গীদের কাছে দিয়েছে? চুপ থাকেন কেন? আর প্রম্নকর্তারা যে কেন বুঝে না তা বোধগম্য নয়। আবার এরা নিজেদের জ্ঞানী (?), বুদ্ধিমান (?), বড় বড় রাজনীতিবিদ (?), দেশপ্রেমিক (?) ইত্যাদি মনে করে। তাই এ ধরণের প্রশ্ন তোলা শুধু মাত্র প্রকৃত ঘটনা থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
গুলি কেন পিছনে এমন প্রশ্ন বা বিতর্কও কেউ কেউ তুলেছেন। কে বলেছে যে গুলি শুধু পিছনে? গুলি তাদের অনেক জায়গাতেই আছে। আর তারা বিভিন্ন পজিশনে ছিল এবং এধরনের অভিযানে গুলি যে কোন জায়গাতেই লাগতে পারে। আর ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার কি্ন্তু বলেন নাই যে শুধু পিছনেই গুলি করা হয়েছে। তারপরও যদি পিছন থেকে গুলি করা হয়ে থাকে তাতে সন্দেহের কি আছে? নাকি যারা বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন তারা বলবেন যে অভিযানের সময় কোথায় গুলি লাগবে কোথায় লাগবে না তা প্রেসক্রাইব করা থাকবে? কেন পুলিশকে বার বার প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়? আসলে এরা (প্রশ্নকারীরা) জঙ্গীরা যে মারা গেছে তাতে খুশি না হয়ে উল্টা পথে তাদের কিছু হারানোর ব্যথাই বেশী প্রকাশ পেয়েছেন। আর তারা বেশী খুশি হতো যদি কয়েক ডজন পুলিশ মারা যেত বা ঐ বির্ল্ডিং এ যে সাধারণ বাসিন্দারা ছিল বা আশে পাশে যারা প্রতিবেশী ছিল তাদের মধ্যে অনেকে মারা গেলে খুশি হত। তাহলে তারা তা ফলাও করে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করতে পারত এবং তাদের আলোচনার একটা ভাল পয়েন্ট পেয়ে যেত।
আবার কেউ বলছেন যে কেন তাদের জীবিত ধরা হলো না? এক কথায় উত্তর হলো জীবিত যেটা ধরা সম্ভব হয়েছে সেটা ধরেছে (হাসান)। আর যাদের সম্ভব হয় নাই তাদের বাধ্য হয়ে গুলি করতে হয়েছে এবং তাতে মারা গেছে। তবে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেন যে পৃথিবীতে কয়টা উদহরন বা দৃষ্টান্ত আছে যে জঙগীদের জীবিত ধরা হয়েছে। এইতো সেদিন (কল্যানপুর ঘটনার পরে) ফ্রান্সে গীর্জা ঘরে কয়েকজনকে জিম্মি করেছেল সন্ত্রাসীরা। সেখান থেকেও তো সন্ত্রাসীদের জীবিত আটক করতে পারে নি; জার্মান পারেনি, আমেরিকা পারেনি, ভারত পারেনি। তো এতগুলো দেশ ও তাদের আইন শৃংখলাবাহিনী যখন সন্ত্রাসীদের জীবিত ধরতে পারে নি তখন আপনি কিভাবে আশা করেন যে বাংলাদেশ এ সেটা সম্ভব। বাংলাদেশ এর সোয়াত বাহিনী, পুলিশ, র্যা ব চেষ্টা করেছে যে ক্যাজুয়ালিটি যত কম হয় এবং সন্ত্রাসীরা যেন ঐ বিল্ডিং এ অবস্থানরত সাধারন মানুষের কোন ক্ষতি করতে না পারে এবং এর আশেপাশে যারা বসবাস করত তাদেরও যেন কোন ক্ষতি না হয় এবং তারা সেটা করতে পেরেছে। আর তা করতে গিয়ে যদি কয়েকজন সন্ত্রাসীদের গুলি করা লাগে তা তারা করছে। এতে তো কোন দোষের কিছু দেখি না। তবে হ্যা যদি তাদের জীবিত ধরা যেত তবে হয়তো অনেক তথ্য পাওয়া যেত। কাজেই কেন জঙ্গীদের জীবিত ধরা হলো না এমন গাধামার্কা প্রশ্ন করা মানে আপনারাই আপনাদের তামাশার বস্তুতো রুপান্তরিত করছেন।
আবার কেউ বলছেন যে মাত্র চারটি পিস্তল আর কয়েকখানা সবজি কাটা ছুরি (আপনাদের ভাষায়) দিয়ে এতগুলো আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে কিভাবে সারারাত টিকে থাকা সম্ভব। খুব সহজ হিসাব। আমাদের আইন শৃংখলা বাহিনী তাদের সাথে সারা রাত গোলাগুলি করে নি। কেবল মাত্র তাদের শক্তি পরীক্ষা এবং গোলাগুলি যেন শেষ হয়ে যায় তার জন্য কৌশল অবলম্বন করেছে। তাই তাদের শক্তি শেষ করার জন্য পুলিশ মাঝে মাঝে তাদের গোলাগুলি ও শক্তি শেষ করার জন্য এমন সব কৌশল অবলম্বন করেছে যেন তারা গুলি করতে ও গ্রেনেড ছুড়তে বাধ্য হয়। কারন আমাদের বাহিনী সিদ্ধান্তই নিয়েছিল যে তারা সকালে অভিযান করবে। আর তাদের কাছেতো অনেক গোলাগুলি ছিল তা যেমন হাসান বলেছে ঠিক তেমনি অভিযানের শেষে তাদের নিকট থেকে উদ্ধার করা পিস্তুল, গুলি, ছুরি, রামদা ইত্যাদি দেখেইতো বুঝা যায়। আপনারা এটা একেবারেই ভাববেন না যে আমাদের পুলিশের কোন উপস্থিত বুদ্ধি নাই। বরং আমাদের পুলিশ এর যথেষ্ট উপস্থিত বুদ্ধি আছে যার প্রমান দিয়েছিল হলি আর্টিজন রেস্তোরায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা। যার কিনা পিস্তুল থাকতেও বন্দুক দিয়ে থেমে থেমে গুলি করেছে যেন জঙ্গীরা পালিয়ে যেতে না পারে। অতএব প্রশ্ন অবান্তর। বিতর্ক সুষ্টি করে শুধু নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয়া বিইকি আর কিছুই না।
আর কেউ প্রশ্ন করেছেন যে তারা যখন আল্লাহু আকবর বলেছেন তখন তাদের কাছে মনে হয়েছে যে সেখানে ২০/২৫ জনের কণ্ঠ বলে মনে হয়েছে। তবে আমার যেটা মনে হয় তা হলো প্রথম যখন আল্লাহু আকবর তারা বলেছিল তখন হয়তো আশেপাশের আরো অনেকেই কণ্ঠ মিলিয়েছিল – যা সাধারনত করে থাকি। এর কারন হলো প্রথম অবস্থায় জনগণ বুঝতে পারে নাই যে আসলে জঙগীরাই আল্লাহু আকবর উচ্চারণ করেছে। দ্বিতীয়তঃ বন্ধ জায়গায় যদি কম শব্দও হয় তবে তা খুব বেশী মনে হয়। তৃতীয়তঃ ওখানে হয়তো অন্য মেসে তাদের সহযোগী ছিল বা থাকতে পারে। তারাও হয়তো আল্লাহু আকবর বলায় অংশ নিয়েছিল। তবে সবই অনুমান ভিত্তিক।
কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন যে পুলিশ কর্মকর্তা কিভাবে বললেন যে জঙ্গীরা মনে হয় শিক্ষিত, ভাল পরিবারের যা তাদের পোষাক, কথাবার্তা ইত্যাদিতে বুঝেছেন। আর কেউ কেউ এতে মনে হয় মওকা পেয়েছেন। তবে মনে করি মওকা পাওয়ার কোন বিষয় না। কারন যক্তিবিদ্যায় কিন্তু অনুমান ও অভিজ্ঞতা বলে কিছু বিষয় আছে। তাই উনি যদি অনুমান নির্ভার হয়ে এবং কিছু অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যদি এরকম কিছু একটা বলেন তাতে তো মনে হয় না যে ঐগুলোই সব। তিনি কিন্তু যে কথা দিয়ে বক্তব্য শেষ করেছেন তা হলো আমাদের তথ্য্-উপাত্ত সংগ্রহ চলছে পরে আরো বিস্তারিত জানানো হবে। আর এটা বলার জন্য কোন পিএইডি ডিগ্রী লাগে না। আপনিও একজন কৃষক দেখলে চিনবেন, একজন রিক্সাওয়ালা দেখলে চিনবেন, একজন ফেরিওয়ালা দেখলে চিনবেন, আবার একজন শিক্ষিত লোক দেখলেও চিনবেন। এটা চিনতে খুব বেশী দেয জ্ঞানী, বা লেখাপড়া জানা বা একেবারে চৌকষ হতে হবে তা কিন্তু নয়। আমরা কিন্তু একটা লোকের চেহারা, পোষাক, কথার ধরন (যা তার রাতে বারান্দায় এসে পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেছে) তা থেকেই কিন্তু অনুমান করা যায়। আর আপনি যদি যুক্তিবিদ্যা পড়ে তাকেন তবে জানবেন সব কিছুই অনুমান নির্ভর। যেকোন যুক্তি প্রথমে উপস্থাপন করতে হলে আগে তার একটা অনুমান দরকার। অনুমান ছাড়া কোন যুক্তি দাঁড় করানো যায় না। কাজেই অনুমান, অভিজ্ঞতা, তাদের জ্ঞান দিয়ে বলেছে তাতে সমস্যাটি কোথায়?
যাই-ই হোক। এতক্ষণ প্রশ্ন ও তর্কের বিষয়গুলো আলোচনা করতে চেষ্টা করলাম যা হয়তো খুবই দুর্বল। এ থেকে হয়তো কেউ এমন বড় বা অকাট্য কোন খন্ডন খুঁজে পাবেন না। তারপরও আমার এ রকম মনে হয়েছি তাই লিখছি। তবে আমার ছোট একটা বিষয় মনে শুধু খচখচ করছে। আর তা হলো এত পুলিশ বেষ্টনী, এত কর্ডন, এত আইন-শৃংখলাবাহিনী যারা কিনা পুরো এলাকা ঘিরে ছিল তাদের মধ্যে দিয়ে বা তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে একজন জঙ্গী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো। তবে কি কর্ডনে বা ঘেরাও এ বা ঐ বিল্ডিং বা পাশের বির্ল্ডিংগুলো থেকে তাদের উপর কোন নজর রাখা হয়নি? বলা হয়েছে যে তারা পাশের একটি বির্ল্ডিং এ লাফিয়ে পড়ে ছিল? সেখান থেকে হাসানকে গুলিবিদ্ধ করে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আর অন্যজন পালিয়ে গিয়েছি। পরে জানতে পারলাম যে সেই-ই ছিল ঐ দলের নেতা যে কিনা তাদের সব থাকা খাওয়া ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকত। তো এতে কি মনে হতে পারে না যে কোথাও না কোথাও অথবা কোন না কোন ভাবে ঐ বাড়ী বা এলাকা ঘিরে রাখার মধ্যে কোন দৃর্বলতা ছিল। আমরা তো জানি যে মাত্র একজন পালাতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এটা কি অনুমান করা খুবই অযৌক্তিক হবে যে ঐ সাথে বা ঐভাবে আরো জঙগী কি ওখান থেকে ঐ রাতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে কিনা? যেহেতু একজন পালাতে সক্ষম হয়েছে – সেহেতু আরো হয়তো কেউ পালালে পালাতেও পারে। তবে আমার বিশ্বাস হয়তো আর কেউ-ই পালাতে পারেনি।
তাই পরিশেষে প্রশ্নকারীদের বা বিতর্ক্ সৃষ্টিকারীদের শুধু একটা গল্প বলবঃ এক ব্যাক্তির একটা গাধা ছিল। আর সে একদিন তার বউ (স্ত্রী) নিয়ে দূরে বেড়াতে যাবে বলে স্থির করল। যথারীতি সাথে গাধাটিও নিল। প্রথমে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই গাধার পিঠে উঠল। তাতে দেখা গেল যে কিছুলোক বা যারা দেখছিল তার বলল যে-লোকটা কি নিষ্ঠুর। একটা গাধার পিঠে দু’জন চড়ে যাচ্ছে। এই কথা লোকটা শুনল এবং নিজে গাধা থেকে নেমে শুধু তার স্ত্রীকে পিঠে রেখে আবার চলা শুরু করল। তাতে আবার কিছু লোক বলাবলি করল যে কেমন পুরুষ। স্ত্রীকে গাধায় চড়িয়ে নিচেছ আর নিজে হেঁটে যাচ্ছে। এ কথা শোনার পরে লোকটা এবার তার স্ত্রীকেও গাধা থেকে নামিয়ে দু’জনে হাঁটতে লাগল। আর তাদের সাথে গাধাকেও হাটিয়ে নিতে শুরু করল। এবার গাধার পিঠে কিন্তু কিছুই নেই। তাই এবার আবার যারা দেখছিল অথবা তাদের মধ্যে কিছু লোক বলাবালি করতে শুরু করল যে, লোকটা কি বোকারে! গাধা থাকতে তারা পায়ে হেঁটে যাচ্ছে কেন। বেচার পুরুষ কোন দিকে যাবে। আমাদের সমাজে-দেশে-রাষ্ট্রে, বাড়ীতে, রাজেনৈতিক দলসমূহে কি ঐ রকম লোক নাই? অবশ্যই আছে। কারন তারা কখনো ভালোটা দেখতে চায় না বা পারে না। আমাদের ঐ প্রশ্নকর্তা ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিবিদ, জঙ্গীদের সহায়তাকারীরা কখনোই কোন কাজের মধ্যে ভাল কিছু দেখতে পারে না বা চায় না। তাই আসুন আমরা কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলতে শিখি।
-শৌল বৈরাগী।
Saturday, July 30, 2016
বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি।
বন্যায় বাংলাদেশ।
চলতি বছরে জুলােই মাস শেষ হতে না হতেই দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারন করেছে।দেশের উত্তরা্ঞ্চলের প্রায় সবগুলো জেলার যেমন সুনামগঞ্জজ, রংপুর, নেত্রকোণা ইত্যাদি ও তার জনগণ এখন জান-মাল রক্ষার্থে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। অনেকেই ঘর বাড়ী ছেলে সংসারের যতটুকু পারছে আসবাপত্র ও গরু ছাগল নিয়ে কো্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে। পাচ্ছে না বিশুদ্ধ খাবার পানি এমনকি পেট ভরে খাবার।বন্যা দুর্গতরা বাংলাদেশ এর টিভি চ্যানেলগুলোর সাংবাদিকদের কাছে প্রায়শঃ অভিযোগ করে যাচ্ছে যে তারা নূন্যতম সহায়তা পাচ্ছে না। তার উপরে আছে সাপের ভয়। কেউ কেউ আবার বাড়ী ঘর না ছেড়ে কলাগাছ বা অন্য কোন উপায়ে পানির উপর ভাসছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে যে বন্যা দুর্গত এলাকাতে যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণ পাঠানো হয়েছে এবং হচ্ছে। আর সরকার কঠোর ভাবে তার নেতা কর্মী ও সরকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে যদি কোন রকম অনিয়ম হয় তবে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।। বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধদের।
বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী সময়ে এদের সহায়তা একন্ত প্রয়োজন যেন তার আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
আইএস নিধনে একাই নামছে পুতিন বাহিনী
আইএস নিধনে একাই নামছে পুতিন বাহিনী
রাশিয়ায় যদি একটা বোমা ফেলে আইএস, তাহলে পরের আধ ঘণ্টায় পৃথিবীর সমস্ত ইসলামি জঙ্গিকে নিকেশ করব। রীতিমত হুমকি দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
শোনা যাচ্ছে, আইএস জঙ্গিদের স্বঘোষিত রাজধানী সিরিয়ার রাক্কা শহর দখল করতে বিশাল সমরসজ্জা করছেন। বিমান, কামান ছাড়াও দেড় লাখ বাছাই করা রুশ যোদ্ধা থাকবে হামলায়। গত বছর প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পরও ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে আইএস বিরোধী যৌথ অভিযানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুতিন।
কিন্তু ইউরোপীয় নেতৃত্ব ইতস্তত করেছিল রাশিয়াকে সঙ্গে নিতে। আমেরিকাও কোনো আগ্রহ দেখায়নি। তাই এবার একাই আইএস নিধনে নামছে পুতিনের বাহিনী।
বাংলাদেশে আইএস নেই, অন্য কেউ উসকে দিচ্ছেঃ বার্নিকাট
বাংলাদেশে আইএস নেই, অন্য কেউ উসকে দিচ্ছেঃ বার্নিকাট
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে বাংলাদেশে চিহ্নিত কোনো আইএস নেই। তবে এখানে জঙ্গিবাদ উসকে দিচ্ছে বাইরের কেউ। বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে তাদের চিহ্নিত করে দমন করতে হবে।
সোমবার ২৫ জুলাই নগর ভবনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবনে মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট এ কথা বলেন। ‘নিরাপদ এবং শক্তিশালী সিটি’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড মেয়রদের সিটি নেটওয়ার্ক সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য মেয়রকে আমন্ত্রণ জানাতে রাষ্ট্রদূত নগর ভবনে আসেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সব দেশেই দেশীয় সন্ত্রাসীরা হামলা করছে। আমরা দেখছি, যারা সন্ত্রাসী কাজ করছে, তারা দেশের বাইরে থেকে আসছে না।লোকজন আমাকে বাংলাদেশে হামলার সম্পর্কে বলেছে। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশি সংস্কৃতি, রাজনীতি ও ধর্ম নয়। কিছু লোক এখানকার মানুষকে এ বিষয়ে প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত করছে।
বার্নিকাট বলেন, গুলশান হামলার পর জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ ভালো ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদকে জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছেন, যা প্রশংসার দাবি রাখে। উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান অভিন্ন ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ ব্যক্ত করেন তিনি।
বার্নিকাট বলেন, সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলায় শহর নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘সেইভ সিটি’ বিষয়ক ওয়ার্ল্ড মেয়রদের একটি কনফারেন্সের আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। এটার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আমরা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছি, বাংলাদেশের মানুষের মনে মৌলবাদী চিন্তা নেই। যে একটা বা দুটি ঘটনা ঘটেছে, তা মোকাবিলায় সরকার সফল হয়েছে। মেয়র বলেন, আমরা এ ধরনের ঘটনার (জঙ্গি হামলা) সম্মুখীন এই প্রথম। তবে আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছি। মানুষের মনে যে ভয় ছিল, তা এখন আর নেই।
বৈঠকে বার্নিকাটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর আন্দ্রেয়া ব্রুলেট রডরিগাজ, রাজনৈতিক কর্মকর্তা ড্যানিয়েল বাকোভ ছাড়াও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল উপস্থিত ছিলেন।
কোনো ধর্ম নিষিদ্ধ করব না
সম্মেলনের স্থানজুড়ে মুহুর্মুহু স্লোগান। হর্ষধ্বনি-চিৎকার। এমনই এক পরিবেশে হিলারি ক্লিনটন আনুষ্ঠানিকভাবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যখন কোনো ছাদ থাকে না, তখন আকাশই হয় সীমানা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনে হিলারি তার মনোনয়ন গ্রহণ করেন। এই সম্মেলনে তার ঐতিহাসিক ভাষণে হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, আমরা আমেরিকান। আমরা সবাই মিলে একটি শক্তি। আমাদের সব সমস্যা আমরা সবাই মিলে সমাধান করব। আমেরিকা কখনো এমন কোনো দেশ হবে না যেখানে এক শতাংশ মানুষের হাতে ক্ষমতা থাকবে। আমরা কোনো ধর্মকেই নিষিদ্ধ করব না। আমরা সব আমেরিকান একসঙ্গে কাজ করব। যুক্তরাষ্ট্রের ২৪০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী কোনো প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন। আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি জয়ী হলে তিনি হবেন দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। হিলারি তার মনোনয়নকে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমেরিকায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সরে গেলে তা সবার পথ খুলে দেয়। যখন কোনো ছাদ থাকে না, তখন আকাশই হয় সীমানা। হিলারি তার ভাষণে নিজেকে স্বচ্ছ দৃষ্টির নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমেরিকা এখন যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তার সুরাহায় অটল নেতৃত্বের প্রয়োজন। প্রয়োজন সম্মিলিত চেতনা। আমেরিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার কথা শোনান হিলারি। তিনি আমেরিকাকে সব নাগরিকের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। হিলারি বলেন, তিনি সবার প্রেসিডেন্ট হবেন। কোনো দেয়াল গড়বেন না। গড়বেন অর্থনীতি। তার প্রাথমিক লক্ষ্য হবে অধিক সুযোগ ও ভালো চাকরি সৃষ্টি করা। মজুরি বাড়ানো। দেশ-বিদেশের শত্রু ও হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।
সৌজন্যেঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন।
উকিল নোটিশ কী ও কেন ?
কোনো ব্যক্তি দ্বারা মৌখিক, আর্থিক অথবা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উকিল নোটিশ দিতে হয়। কারো বিরুদ্ধে মামলা করার আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে এ নোটিশ দিতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না এলে তখন মামলা দায়ের করতে হয়।
উকিল নোটিশ কি ?
যেকোনো মামলার কার্যক্রম শুরুর আগে প্রতিপক্ষকে উকিল নোটিশ দিতে হয়। সাধারণত মামলার বাদীপক্ষ নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে এই নোটিশ প্রেরণ করে। উকিল নোটিশে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে বলা হয়, নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিশে কত দিন সময় দিতে হবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে সরকার প্রতিপক্ষ হলে এক মাস সময় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অন্যদের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা থেকে এক মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এর পর সরকারি ডাকযোগে প্রতিপক্ষকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা বরাবর পাঠাতে হয়।
মামলা দায়ের
উকিল নোটিশ পাঠানোর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উকিল নোটিশের সঠিক জবাব বা প্রতিকার না পেলে নোটিশ প্রেরণকারী আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলা করতে পারবেন। নোটিশে উল্লেখ করা সুনির্দিষ্ট মেয়াদের আগে মামলা করা যায় না।
আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ
হাইকোর্টে মামলা পরিচালনার জন্য সাধারণত হাইকোর্টের নিবন্ধনযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ প্রেরণ করতে হয়। আর জেলা জজ আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য জজ আদালতে মামলা পরিচালনা করেন এমন আইনজীবীকে দিয়ে উকিল নোটিশ দিতে হয়। উকিল নোটিশ প্রেরণের ক্ষেত্রে আইনজীবীকে ফি দিতে হয়। অধিকাংশ আইনজীবী উকিল নোটিশ দেওয়ার আগে ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেন। তবে উকিল নোটিশের সঙ্গে আদালতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলা পরিচালনার জন্য যেকোনো আইনজীবীর কাছেই যাওয়া যেতে পারে।আইনজীবীরা বিভিন্ন ধরনের মামলা পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করেন। কাজেই কোন আইনজীবী কোন বিষয়ে দক্ষ, সেটি জেনে আইনজীবী বাছাই করা ভালো। আর পরিচিতদের মাধ্যমেও আইনজীবীদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা যেতে পারে।
ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত ল' ফার্মগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আবার ব্যক্তিগতভাবেও কাউকে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। হাইকোর্ট চত্বরে অবস্থিত সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনে বিভিন্ন আইনজীবীর চেম্বার রয়েছে। এ ছাড়া এ ভবনের দুটি হলে আইনজীবীরা বসেন। সুপ্রিম কোর্ট বার অফিস থেকে তালিকাভুক্ত সব আইনজীবীর ঠিকানা ও ফোন নম্বরসংবলিত একটি ডিরেক্টরি সংগ্রহ করা যেতে পারে। এটি প্রতিবছর সংস্কার করা হয়।
মামলার দায়িত্ব দেওয়া
ওকালতনামা বা একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আইনজীবীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার দায়িত্ব দিতে হয়। একবার আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়ার পর তার লিখিত সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনার সুযোগ থাকে না।
মামলার খরচ
মামলায় খরচ হয় সাধারণত দুই ভাবে। একটি আইনজীবীর ফি বাবদ, অন্যটি দাপ্তরিক খরচ বাবদ। আইনজীবীর ফির অঙ্ক নির্দিষ্ট নয়। বিভিন্ন আইনজীবী নানা ধরনের মামলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঙ্কের ফি নেন। স্বাভাবিকভাবেই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের ফির অঙ্কটা বেশি হয়। মামলার ধরণ বুঝে দাপ্তরিক খরচ নির্ধারিত হয়।
মামলা শুরু করা
এ কাজটি আইনজীবী বা তার সহকারী করে থাকেন। কোর্ট অফিসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করলে সেখানে একটি নম্বর দেওয়া হয়। এর পর কোর্টের একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করাতে হয়। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর কার্যতালিকা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে শুনানি সম্পন্ন করা হয়। মামলার একাধিক দিন শুনানি হতে পারে। প্রতিপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সময় দেওয়া হতে পারে। তবে এর মাঝে বেঞ্চ ভেঙে দেওয়া হলে পুনরায় অন্য একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এ কার্যতালিকাকে কজলিস্ট বলা হয়। কৃতজ্ঞতা স্বীকার: 'ল' ফাইটার। ডিএমপি'র ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।
সৌজন্যেঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন।
গোপালগঞ্জে শিশু ধর্ষিত।
পেয়ারার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ
A child rape complain has been noticed at the Sador Upazilla of Ishakhali village at Gopalganj district. A suspected name by Alid Mollah (17) is arrested by local police.
On last Friday the boy tempted the child with Guava and rapped and at night the police arrested the adolescent boy.
Arrested Adil Mollah is the son of Md Nazrul of Ichakhali village.
The Officer in Charge reported that the child was tempted to provide a Guava and took him in a distance house where has no one and rapped her. The child informed the incident to her mother and complained at local Police Station. Finally the police arrested the boy and he admitted the incident according to the police report.
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ইছাখালি গ্রামে চার বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আলিদ মোল্লা (১৭) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় পেয়ারা খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর গভীররাতে ওই কিশেরাকে আটক করা হয়।
আটক আলিদ মোল্লা উপজেলার ইছাখালি গ্রামের মো. নজরুল মোল্লার ছেলে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে পেয়ারা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে আলিদ। শিশুটি এ ঘটনা তার মাকে জানালে তিনি রাতেই থানায় অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আলিদ মোল্লাকে আটক করে। আলিদ পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান ওসি।
Friday, July 29, 2016
গোপালগঞ্জে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ওষুধ কারখানা
দেশের একমাত্র সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী এসেনসিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) উদ্যোগে ১০ একর জমির ওপর ৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহৎ এ শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এটি পুরোদমে চালু হলে প্রায় ৮শ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে জানান, ইতোমধ্যেই প্রকল্পের শতকরা ৭০ ভাগ ভৌত অবকাঠামোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৭ সালের নভেম্বর অথবা ডিসেম্বর মাস নাগাদ ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরো জানান, গুণগত মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত সিজিএমপি (কারেন্ট গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্রাকটিস) অনুসরণ করে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এ ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হচ্ছে। ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের পর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপন করা হবে।
এ শিল্প প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের ওষুধ উৎপাদন হবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিজিএমপি অনুসরণ করে এ প্রতিষ্ঠানে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (পিল ও ইনজেকশন), বিভিন্ন ধরনের ইনট্রাভেনাস (আইভি) ফ্লুইড ও পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদিত হবে।
প্রথম বছরেই ১৫০ কোটি টাকার জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী, ৪০ কোটি টাকার আইভি ফ্লুইড ও ৫০ কোটি টাকার পেনিসিলিন উৎপাদন করা হবে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ফলে বর্তমানে এ ধরনের ওষুধ আমদানিতে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হতো তার অনেকটাই সাশ্রয় হবে।
ইডিসিএল এমডি আরো জানান, সরকারিভাবে বর্তমানে গোপালগঞ্জের পাশাপাশি বগুড়াতেও ‘সেফালোস্পোরিন’ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ইনজেকশন তৈরির লক্ষ্যে একটি পৃথক কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। এটি সরকারি একটি আন্তর্জাতিক মানের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান হবে। প্রতিষ্ঠানটিতে ২ শতাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে প্রথম যাত্রা শুরু করে ইডিসিল। তখন এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে জিপিএল (গর্ভমেন্ট ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড) নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে ফার্মাসিউটিক্যালস প্রোডাকশন ইউনিট (পিপিইউ) নামকরণ হয়।
১৯৮৩ সালে দেশীয় ওষুধের চাহিদা মেটাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইডিসিএল নামে যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৪ সালের কোম্পানি অ্যাক্ট অনুসারে ইডিসিএলকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রুপান্তর করা হয়
Thursday, July 28, 2016
নিহত জঙ্গি আকিফুজ্জামান মোনায়েম খান পরিবারের সদস্য
কল্যাণপুর জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন ‘স্ট্রম-২৬’ এ নিহত আকিফুজ্জামান খান তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের কুখ্যাত গভর্নর আব্দুল মোনায়েম খান পরিবারের সদস্য। নিহত জঙ্গি একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।
পুলিশ আকিফুজ্জামানের ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের আঙুলের ছাপের সঙ্গে নিহত জঙ্গিদের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আট জঙ্গির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা গেছে, মোনায়েম খানের তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আখতারুজ্জামান বাচ্চু। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি মিশরের কায়রোতে এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। ‘পয়গাম’ নামে মোনায়েম খান একটি পত্রিকা বের করেছিলেন। তার ছেলে আখতারুজ্জামান ছিলেন ওই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
মোনায়েম খানের আরেক ছেলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক মুসলিম লীগের (বিএমএল) সভাপতি এইচ এম কামরুজ্জামান খান।
ছোট ছেলে সাইফুজ্জামান খান। রাজধানীর গুলশানের ১০ নম্বর সড়কের ২৫ নম্বরে তার বাসা। কয়েক বছর আগে তিনিও মারা গেছেন। কল্যাণপুর অভিযানে নিহত জঙ্গি আকিফুজ্জামান খান সাইফুজ্জামান খানের ছেলে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আকিফুজ্জামান খানের বাবার নাম সাইফুজ্জামান খান এবং মায়ের নাম শাহানাজ নাহার। গুলশানের ১০ নম্বর রোডে তার বাসা। তার এনআইডি নম্বর ২৬১১০৬০০১০০৬ এবং জন্ম ১৯৯২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। তার জাতীয় পরিচয়পত্রের সনাক্তকারী ছিলেন মোনায়েম খানের ছেলে কামরুজ্জামান খান।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি নামে একটি বাড়িতে অভিযান চালায় সোয়াত, র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। এ সময় ১ জঙ্গি গুলিবিদ্ধসহ ২ জনকে আটক করে পুলিশ।
কল্যাণপুরের অষ্টম জঙ্গি গুলশানের প্রশিক্ষক রায়হান: পুলিশ
রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় নিহত নয়জনের মধ্যে অষ্টম জঙ্গির পরিচয় পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিং জানান, রায়হান কবির ওরফে তারেক নামের ওই তরুণ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ঢাকা অঞ্চলের সমন্বয়েকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিদের গাইবান্ধার চরে প্রশিক্ষণ দেন তিনি।
আশুলিয়ায় পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ছুরিকাঘাতে কনস্টেবল হত্যার ঘটনাতেও রংপুরের পীরগাছার শাহজাহান কবিরের ছেলে রায়হান জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কে তাজ মঞ্জিল নামের ছয় তলা একটি ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযানে গিয়ে সোমবার রাতে হামলার মুখে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। পরে মঙ্গলবার ভোরে সেখানে সোয়াটের বিশেষ অভিযানে নিহত হন সন্দেহভাজন নয় জঙ্গি।
তাদের মধ্যে সাতজনের আঙ্গুলের ছাপের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্রে ব্যবহৃত আঙ্গুলের ছাপের মিলিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় পরিচয় প্রকাশ করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।
তারা হলেন- দিনাজপুরের আব্দুল্লাহ (২৩), পটুয়াখালীর আবু হাকিম নাইম (২৪), ঢাকার ধানমণ্ডির তাজ-উল-হক রাশিক (২৫), ঢাকার গুলশানের আকিফুজ্জামান খান (২৪), ঢাকার বসুন্ধরার সেজাদ রউফ অর্ক (২৪), সাতক্ষীরার মতিউর রহমান (২৪) এবং নোয়াখালীর জোবায়ের হোসেন (২২)।
এদের মধ্যে সেজাদ রউফ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী। গত ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ এই যুবক গুলশানে ক্যাফেতে হামলাকারী নিবরাজ ইসলামের বন্ধু ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল বলেন, কল্যাণপুর অভিযানে নিহত জঙ্গি আকিফুজ্জামান (পিতা সাইফুজ্জামান) পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর মোনায়েম খানের নাতি। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।
অর্ক এবং রাশিকও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আর রায়হান, আব্দুল্লাহ ও নাঈম পড়াশোনা করেছেন মাদ্রাসায়।
“রায়হান কবিরের ছদ্মনাম তারেক। সে আশুলিয়ার বারুইপাড়ায় পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত ছিল এবং পুলিশের খাতায় তার নাম লেখা ছিল তারেক বলে। তাকে পুলিশ খুঁজছিল।”
গত বছর ৪ নভেম্বর আশুলিয়ার বারুইপাড়া এলাকার একটি পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ছুরিকাঘাতে এক কনস্টেবলকে হত্যা ও চারজনকে জখম করে জঙ্গিরা।
ব্রিফিংয়ে মনিরুল বলেন, “রায়হান কবির গুলশান হামলাকারীদেরও প্রশিক্ষক ছিল। তাকে আমরা তারেক নামে চিনতাম। গুলশানে হামলার আগে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের একটি চরে সাতজনকে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে গুলশান হামলাকারীরাও ছিল। তাদের দুই প্রশিক্ষকের একজন ছিল রায়হান ওরফে তারেক।”
১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরে সামরিক বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুলের দাবি এ বছরের প্রথম দিকে জেএমবির কয়েকজন সংগঠক পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ার পর সংগঠনটির ঢাকা অঞ্চলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন রায়হান ওরফে তারেক।
Labels:
9 Jongi,
Jongi Trainer
Location:
Dhaka 1000-1200, Bangladesh
দেশব্যাপী জঙ্গিহামলার পেছনে ইন্দনদাতা অর্থদাতারা চিহ্নিত
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তদের কোনভাবেই রক্ষা করতে না পারার কারণে এবং সর্বশেষ পালের গোদাদের একজন মীর কাশেম আলীর ফাঁসির দন্ডকার্যকর করার আগে শেষ চেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশে জঙ্গীরা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যম সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টা ও বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার নীলনক্সা করে যাচ্ছে। আর এ নীলনক্সা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলাম, সাকা চৌধুরী, নিজামী ও জামায়াতের মানি মেশিন মীর কাশেম আলীর পরিবার । এই কারণে মরিয়া যুদ্ধপরাধীদের দল জামায়াত এখন জঙ্গীদের মাঠে নামিয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ জামায়াতের অর্থের যোগানদাতা হিসেবে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী মীর কাশেম আলীকে বাঁচাতে এখন মরিয়া জামায়াত ও তাদের সহযোগী পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। এই নীল নক্সার ছক কষেই গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গী হামলা চালানোর পর রাজধানী ঢাকার কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানা গেড়ে ঢাকায় বড় ধরনের নাশকতায় প্রস্তুতির খবর পেয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ২৬ জুলাই ভোর ৫টা ৫১ মিনিটে ‘অপারেশন স্ট্রম টুয়েন্টি সিক্স, পরিচালা করে। এই অপারেশনে ৯ জঙ্গি নিহত ও একজন আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গ্রেফতার অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে। আর এজ জঙ্গি পালিয়ে গেছে। নিহত ৯ জঙ্গির মধ্যে এ পর্যন্ত আট জঙ্গির পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে পরে আলাদা একটি নিবন্ধ লেখার অভিপ্রায় পোষণ করে প্রসংগে ফিরে যাচ্ছি।
এমতাবস্থায় ২৫ জুলাই ২০১৬ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বদরবাহিনীর তৃতীয় শীর্ষ নেতা জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলী দন্ডের চূড়ান্ত রায় পুনঃবিবেচনার যে আবেদন করেছিলেন, তার শুনানি এক মাস পিছিয়ে গেছে আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। অতিসম্প্রতি যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর মানবতা বিরোধী অপরাধে আপীল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চের ফাঁসির দন্ডের রায় প্রকাশ করা হয়। মীর কাশেম আলীর মৃত্যু পরোয়ানা এরইমধ্যে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এবং ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও পাঠানো হয়েছে এর কপি। মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে আপীলের পূর্ণাঙ্গ রায় ৬ জুন প্রকাশের পর তা পুনঃবিবেচনা চেয়ে ১৯ জুন আবেদন করেন মীর কাশেম। রিভিউ আবেদন শুনানির দিন ধার্যের জন্য আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ধারাবাহিকতায় ২১ জুন চেম্বার বিচারপতি বিষয়টি ২৫ জুলাই নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান এবং মামলাটি সোমবারের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় ৬৩ নম্বর ক্রমিকে আসে। নানা অজুহাত দেখিয়ে মীর কাশেম আলীর আইনজীবীরা ইতমধ্যে দুইবারে দুই মাস শুনানী পিছিয়েছে। আর এ শুনানী পেছানো নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদন্ড কার্যর করতে যত বিলম্ব হবে, দেশে ততই এমন অনাকাঙ্খিত হামলার ঘটনা ঘটতেই থাকবে। কেননা, তারা এখনও আশায় আছে একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে শেখ হাসিনার সরকারকে ফেলে দিতে পারলে তাদের নিজেদের বা পৃষ্ঠপোষকদের সরকার ক্ষামতায় আসলে মীর কাশেম আলীর ফাঁসি কার্যাকরের বিষয়টি থামিয়ে দিতে পারবে।
যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদন্ডের চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনে এক মাস পিছিয়ে দেয়ায় মন্ত্রিসভায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ মামলাটি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার একটি কারণ। তিনি বলেন, শুনানির জন্য সময় দেয়া এই এক মাসে দেশকে আরও অস্থিতিশীল করতে চেষ্টা চালাবে। সকলে সতর্ক থাকুন। বৈঠকে উপস্থিতি একাধিক মন্ত্রী অনির্ধারিত আলোচনায় মীর কাশেম আলীর মামলা নিয়ে আলোচনার করে। এ মামলার শুনানি এক মাস পিছিয়ে দেয়ায় মন্ত্রিসভায় উপস্থিত সকল সদস্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিষয়টি উত্থাপিত হলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, অন্য কোন যুদ্ধাপরাধীর মামলা রিভিউয়ে এত বেশি সময় দেয়া হয়নি। এমনকি দলের প্রধান নিজামীর ক্ষেত্রেও এত সময় দেয়া হয়নি। যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে রিভিউয়ের আবেদনের শুনানি শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এ মামলাটির শুরুতেই এক মাসের বেশি সময় দেয়া হয়েছে। এখন আবারও এক মাস পিছিয়ে দেয়া হলো। এটি মোটেও সুখকর নয়। অন্য এক সিনিয়র মন্ত্রী বলেন, মীর কাশেম আলীর মামলা ঝুলে থাকায় দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অনেকে বলছেন, এটি শেষ হলে দেশের জঙ্গীবাদ আর থাকবে না।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ মামলাটি দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার একটি বড় কারণ। তিনি বলেন, সময় বাড়ানোতে এই এক মাস সকলে সাবধান থাকবেন। একে তো আগস্ট মাস। দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে ব্যাপক চেষ্টা চালাতে পারে। এমন খবর আমাদের কাছে আছে। তাই সকলে সতর্ক থাকবেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর এমন ক্ষোভ ও সাবধানতা অবলম্বনের একদিন পরই রাজধানী ঢাকার কল্যাণপুরে দেশে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রস্তুতি পর্যায়ে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নয় জঙ্গি নিহত ও বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গিরা স্থান-তারিখ উল্লেখ করে দেশে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার যে হুমকী দিয়ে আসছিল, নিহত এই নয় জঙ্গি তাদের নাটেরগুরুরাই এসব হুমকী দিয়ে আসছিল বলে পুলিশের ধারণা।
এই জঙ্গিদের ইন্দনদাতা নাটেরগুরু কারা তা তদন্ত করতে গিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াত-শিবিরের মানি মেশিন মীর কাশেম আলী, মৃত্যু দন্ডিত মতিউর রহমান নিজামী, সাকা পরিবার, জামায়াত-শিবির ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের যোগসূত্র রয়েছে এসব হামলার পেছনে। এবং এরাই বিভিন্ন হামলার নেপথ্যের পরিকল্পনা, অর্থদাতা, নির্দেশদাতা হিসেবে কাজ করেছে । বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাথে আলাপকালে গোয়েন্দরা বলেছেন, এর আগে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও দন্ডিত শীর্ষ আসামীদের ফাঁসির রায় কার্যকরের আগে দেশব্যাপী গুপ্তহত্যা চালিয়ে রায় কার্যকরের মরিয়া প্রয়াস চালিয়েছে। ভয় দেখিয়ে ও দেশের স্থিতিশীলতা নস্যাৎ করতে প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাই মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকরের আগে তারা মরণকামড় দেয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই দেশব্যাপী আইএসের নাম ব্যবহার করে জঙ্গি হামলা চালাচ্ছে।
বিভিন্ন পত্রিকায় গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে ছাপা সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ও শোলাকিয়ায় জঙ্গী হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গোপন সফরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই ধরনের খবর ফাঁস হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গোপন সফরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ও যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাজ্জাক। ব্যারিস্টার রাজ্জাকের সঙ্গে সফরসঙ্গী ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটিতে অংশ নেন মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া মতিউর রহমান নিজামীর এক ছেলে ও মীর কাশেম আলীর ছোট ভাই মীর মাসুম আলী। এর সাথে যুক্ত আছে সাকা পরিবারও। যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এই বিষয়ে বাংলাদেশকে অবহিত করা হয়েছে। কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এ বিষয়ে তদন্ত করছে।
ওইসব প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গিয়ে একাত্তরে চট্টগ্রামের আলবদরপ্রধান মীর কাশেম আলীর নিয়োগ করা লবিস্ট ফার্মের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন ব্যারিস্টার রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন সফরকারী দলটি। তারা ম্যানহাটানের একটি বিলাসবহুল হোটেলে মীর কাশেম আলীর পরিবার ও মার্কিন আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গত ১১ জুলাই রাতে। বেশ কয়েকদিন ধরে গোপনে এই ধরনের বৈঠকের খবরটি ফাঁস হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটানের ১২৫ ইস্ট ও ৫০ স্ট্রিটের বেঞ্জামিন হোটেলে ঢুকে লাউঞ্জে বসে ব্যারিস্টার রাজ্জাক প্রকাশ্যে মীর কাশেম আলীর পরিবার ও মার্কিন আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া মতিউর রহমান নিজামীর এক ছেলে ও মীর কাশেম আলীর ছোট ভাই মীর মাসুম আলী উপস্থিত ছিলেন সেখানে। মুসলিম উম্মাহ ও জামায়াতের সংগঠন ‘কোয়ালিশন অব বাংলাদেশী আমেরিকান এ্যাসোসিয়েশনের বেশ কয়েকজন নেতাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এই খবরটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা গোপন বৈঠকের বিষয়টি মনিটর করেন।
গোয়েন্দাদের তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধে মার্কিন প্রশাসনকে প্রভাবিত করার জন্য একটি লবিং ফার্মকে কয়েক বছরে বিপুল পরিমান অর্থ দিয়েছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী মীর কাশেম আলীর ভাই মীর মাসুম। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বন্ধে মীর কাশেম আলী যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে প্রভাবিত করতে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছিলেন এবং ওই লবিস্ট ফার্মকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলেও জামায়াতের যুদ্ধাপরাধীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির দড়ি থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়। মীর কাশেমের নিজস্ব অর্থায়নে মীর মাসুম নিউইয়র্কে একটি টেলিভিশন চ্যানেলও চালু করে প্রচার মাধ্যম দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে প্রভাবিত করা এবং বাংলাদেশের সরকার বিরোধী প্রচারণা চালানোর প্রধান দায়িত্ব ছিল ওই লবিস্ট ফার্ম ও টিভি চ্যানেলটির। কিন্তু লবিস্ট ফার্ম ও টিভি চ্যানেল তার কোন কাজেই আসেনি।
তাই বর্তমানে সারাদেশে জঙ্গি হামলার মূলহোতা, ইন্দদাতা ও অর্থদাতা কারা তা উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট। এর সাথে লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা বিএনপি নেত্রীর পুত্র তারেক রহমানও যুক্ত আছে বলে বিভিন্ন মিডিয়াতে খবর বেরিয়েছে। তাই সরকারকে দেশে জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে সফলতা অর্জন করতে হেলে এদের ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তা না হলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই থেকে যাবে। শেষ করবো প্রখ্যাত সাংবাদিক জনাব আবদুল গফফার চৌধুরীর একটি নিবন্ধের অংশবিশেষ উদ্ধৃত করে। ২৭ জুলাই ২০১৬ দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত “এই সন্ত্রাসের প্রাণভোমরা দেশের মাটিতেই লুকিয়ে আছে” শিরোনামের নিবন্ধে বলেছেন,‘…এই ঘটনা আগেও ঘটেছে। যখনই সা. কা. চৌধুরী বা মতিউর রহমান নিজামীর মতো যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদন্ডাদেশ ঘোষিত হয়েছে তখনই দেশে সন্ত্রাস চালিয়ে, নিরীহ মানুষ হত্যা করে এই দন্ডাদেশ বানচাল করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার ধারণা, অবশিষ্ট যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য আর ঝুলিয়ে না রেখে দ্রুত এই বিচার পর্বের সমাপ্তি ঘটানো উচিত। তাতেই দেশ সন্ত্রাসমুক্ত হবে না, কিন্তু আপাতত বহু নিরীহ মানুষের প্রাণরক্ষা পাবে। আমেরিকা বলছে আইএস। কিন্তু আমার ধারণা, বাংলাদেশের সন্ত্রাসের পেছনে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী।
সৌজনেঃ
মুক্তকণ্ঠ।
Subscribe to:
Posts (Atom)





