News articles, news stories, daily news, world news
The Bangladesh daily news, news stories and news articles are published mainly of Bangladesh news.
News
All news
Tuesday, August 2, 2016
মুক্তিযুদ্ধে বানিয়ারচর ক্যাথলিক চার্চের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা
লেখক নিকোলাস বিশ্বাস
পটভূমি: যে কোন কিছু বর্ণনা করতে হলে সেটি একটু আগে থেকে বলতে হয়, তাই বাংলাদেশের ইতিহাস জানার জন্যেও একটু আগে গিয়ে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করা যেতে পারে। ব্রিটিশরা এই অঞ্চলটিকে প্রায় দুইশ’ বছর শাসন-শোষণ করেছে। তাদের হাত থেকে স্বাধীনতার জন্য হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছে, জেল খেটেছে, দ্বীপান্তরে গিয়েছে। ১৯৪০ সালে ‘লাহোর প্রস্তাব’-এ ঠিক করা হয়েছিল ভারত-বর্ষের যে অঞ্চলগুলোতে মুসলমান বেশী, সে রকম দুটি অঞ্চলকে নিয়ে দুটি দেশ এবং বাকি অঞ্চলটিকে নিয়ে আর একটি দেশ তৈরী করা হবে।
কিন্তু ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট যে এলাকা দুটিতে মুসলমানরা বেশী সেই এলাকা দুটি নিয়ে দুটি ভিন্ন দেশ না হয়ে পাকিস্তান নামে একটি দেশ এবং ১৫ই আগস্ট বাকি অঞ্চলটিকে ভারত নামে অন্য একটি দেশে ভাগ করে দেয়া হলো। পাকিস্তান নামে পৃথিবীতে তখন অত্যন্ত বিচিত্র একটি দেশের জন্ম হলো, যে দেশের দুটি অংশ দুই জায়গায়। এখন যেটি পাকিস্তান সেটির নাম পশ্চিম পাকিস্তান এবং এখন যেটি বাংলাদেশ তার নাম পূর্ব পাকিস্তান। মাঝখানে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্ব, এবং সেখানে রয়েছে ভিন্ন একটি দেশ ভারত।
এরপর শুরু হয় পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) উপর পশ্চিম পাকিস্তানের (বর্তমানে পাকিস্তান) অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য, বিভেদ, বঞ্চনা আর ষড়যন্ত্র। ফলে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলন ও ১৯৬৬ সালের ‘ছয় দফা’র আলোকে ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেও পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে শাসনভার পাননি। পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে বঙ্গবন্ধু তখন স্বাধীনতার ডাক দেন এবং ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঘোষণা করেন: ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ঢাকার সোহরার্দি উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর এই স্বাধীনতা ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলার লক্ষ-কোটি মানুষ যার যা আছে তাই নিয়ে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবে শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। এ যুদ্ধে সারাদেশের ন্যায় এ অঞ্চলও স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং অকাতরে জীবন উৎসর্গ করে।
এলাকার বয়োজেষ্ঠ্য ব্যাক্তিদের সাথে আলাপ-আলোচনা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে আহরিত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে অত্র এলাকার কিছু ঘটনা নিয়ে লেখাটি প্রস্তুত করা হল। তবে এখানে ঘটনাগুলোর দিন-ক্ষণের ক্রমানুসরণ করা সম্ভব হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধের শহীদ: বানিয়ারচর গ্রামের মাত্তা বাড়ীর স্বর্গীয় যোগিন্দ্র হালদারের ছেলে সুধীর হালদার এবং একই পাড়ার ঠ্যাটা বাড়ির স্বর্গীয় ধন্য বিশ্বাসের ছেলে ধৃতরাষ্ট্র বিশ্বাস এ দেশের দুইজন শ্রেষ্ঠ সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা যদিও সশস্ত্র যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেননি কিন্তু অকুতোভয়ে নিজ নিজ ধর্ম-বিশ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে নিমর্মভাবে শহীদ হন। ঐ সময় সুধীরের বয়স ছিল প্রায় ৩৫। তিনি ছিলেন তিন সন্তানের জনক এবং পেশায় ছিলেন কৃষক। অন্যদিকে ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন উদীয়মান একজন যুবক যিনি ঐ সময় এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ১৭-১৮।
ঘটনার দিন তারা দু’জন মিলে ক্ষেতে তিল কাটতে গিয়েছিলেন। সময়টা ছিল সম্ভবতঃ ১৯৭১ সালের জৈষ্ঠ মাসের কোন একদিন। তিল কেটে তারা নৌকায় করে দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। খালের পাশে মাত্তা বাড়ির ঘাটে তারা তাদের তিল বোঝাই নৌকাটি রাখেন এবং নৌকা থেকে তিল নামানোর প্রস্তুতি নেন। ইতিমধ্যে পাক-বাহিনী বানিয়ারচর গ্রামে ঢুকে পড়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি হিন্দুদের খুঁজতে থাকে। ততক্ষণে গোটা গ্রামের মানুষ ক্যাথলিক মিশন সহ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু সুধীর ও ধৃতরাষ্ট্র আশ্রয় নিতে পারেননি। তারা পাক-বাহিনীর সামনে পড়ে যান। ধর্ম-বিশ্বাসের কথা জিজ্ঞেস করতেই তারা অকপটে নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দেন। আর তখনই পাক-বাহিনী তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও বন্দুকের বেওনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাদের হত্যা করে।
অজ্ঞাতনামা পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা: বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, বীর বিক্রম হেমায়েত উদ্দীনের নেতৃতে¦ গঠিত হেমায়েত বাহিনীতে বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশনের মোট পাঁচ জন সদস্য সশস্ত্র মু্িক্তযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের নাম-পরিচয় জানা না গেলেও তাদের একটি দূর্লভ ছবি পাওয়া গেছে। ছবিটি এখানে প্রকাশ করা হল।
বিমান হামলা: ফাদার আন্তনের সময় ক্যাথলিক মিশনের সহায়তায় এলাকার মৎস্যচাষীদের মাছ খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পাঠানোর জন্য কয়েকটি লঞ্চ তৈরী করা হয়। লঞ্চগুলোর নাম ছিল এদেশের মুক্তির সংগ্রামের সঙ্গে বেশ সাযুয্যপূর্ণ; যেমন: সংগ্রামী বংলা, স্বাধীন বাংলা, মুক্ত বাংলা ও সোনালী বাংলা। এরমধ্যে সংগ্রামী বাংলা লঞ্চটি মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার সরবরাহের জন্য মাঝে মাঝে ব্যবহৃত হোত।
অজ্ঞাতনামা পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা
অজ্ঞাতনামা পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা
গোপালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় একদিন একজন রাজাকার (পাক-বাহিনীর এদেশীয় দালাল) বিষয়টি দেখে ফেলে এবং পাক-বাহিনীকে জানিয়ে দেয়। এরই জেরে যশোরে অবস্থিত পাকিস্তান সৈন্যদের বিমান-বাহিনী বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশনের লঞ্চগুলো ধ্বংস করার জন্য বিমান হামলা চালায়। লঞ্চগুলো তখন মিশন-ঘাটেই অবস্থান করছিল এবং এগুলোর মধ্যে মাত্র একটি লঞ্চ সেদিন ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সৌভাগ্যবশতঃ সেদিন বিমানের ক্যান্টেন আমাদের এলাকার কোন লোকালয়ে বিমান হামলা চালাননি। ফাদার রিগন ঐ সময় যশোরের ক্যাথলিক মিশনের ফাদারদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, ঐ বিমানের ক্যান্টেন ছিলেন পাকিস্তান বংশোদ্ভূত একজন ক্যাথলিক খ্রীষ্টান। তাই তিনি যখন বানিয়ারচরের উপর দিয়ে তার বিমানে চক্কর দিচ্ছিলেন তখন ক্যাথলিক চার্চের ঘন্টাঘরের উঁচূ চূঁড়ায় রাখা বিশাল আকৃতির ক্রুশ-চিহ্ন দেখে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এলাকাটি খ্রীষ্টান-অধ্যূষিত। তাই তিনি সেদিন তার বিমানের গুলিগুলো নদীর মাঝখান দিয়ে ফেলে যান যাতে কারো কোন ক্ষতি না হয়। আরো জানা গিয়েছিল যে, যশোর ঘাঁটির ঐ বিমানের নম্বর ছিল ২০।
পাক-বাহিনীর গানবোট ও হামলা পরিচালনা: যুদ্ধের সময় প্রতিটি দিনই ছিল এক একটি বিভিষিকাময় মুহুর্ত। আমাদের এলাকাটি কৃষিপ্রধান। তাই দুপুর হলেই কৃষাণ-কৃষাণীরা ক্ষেত-খামার থেকে বাড়ি ফিরতো। তখন পাক-হানাদার বাহিনী আমাদের এলাকায় হামলার জন্য এই সময়টাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেছে নিত। মধুমতি বিলরুট ক্যানাল নদী দিয়ে পাক-বাহিনী তাদের গানবোটগুলো নিয়ে আমাদের এলাকায় হানা দিতো। তাই কোনভাবে গানবোটের শব্দ শুনলেই এলাকার মানুষ দলে দলে মিশনে আশ্রয় নিতো। ঐ সময় মিশনের দায়িত্বে ছিলেন জাভেরিয়ান ফাদার সম্প্রদায়ের সদস্য রেভাঃ ফাদার মারিনো রিগন এসএক্স এবং রেভাঃ ফাদার লুচিও চেচ্চি এসএক্স মাঝে মাঝে এসে ফাদার রিগনকে সাহায্য করতেন। তারা দু’জন ঐ সময় আমাদের এলাকায় দেবদূতের ভূমিকা পালন করেছেন। অসহায় ভয়ার্ত মানুষের পাশে থেকে তারা যুগিয়েছেন সাহস, উদ্দীপনা আর জ্বালিয়ে রেখেছিলেন আশার আলো। তারা তখন ক্ষুধার্থ মানুষের খাবারও যুুগিয়েছেন এবং দিয়েছেন অসুস্থ্য মানুষ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুচিকিৎসা।
দেবদূততুল্য ফাদার মারিনো রিগন: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে যেসব বিদেশি পুরোহিত (ফাদার) ছিলেন তারা অনেকেই নিজ দেশে ফিরে যান। ফাদার মারিনো রিগনকেও ইতালিতে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল তার দেশ ইতালি এবং ছুটি নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল তার ধর্মীয় মিশন। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। বাংলাদেশিদের বিপদ দেখে তিনি চলে যাননি নিরাপদ আশ্রয়ে। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় ফাদার রিগন আমাদের বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশনে অবস্থান করেছেন। সেখানে ক্যাথলিক মিশনের প্রধান পুরোহিত হিসাবে কাজ করেছেন।
বঙ্গবন্ধুর সাথে ফা. রিগন
বঙ্গবন্ধুর সাথে ফা. রিগন
২০০৬ সালের ২৮শে নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত স্মারক সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ফাদার রিগন যুদ্ধের সময় তার লেখা একাত্তরের দিনলিপি ও তার তোলা আলোকচিত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে দান করেন। ফাদার রিগনের স্মারকগুলো গ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধের তৎকালীন উপপ্রধান সেনাপতি ও ভেতরে-বাইরে বইয়ের লেখক এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার। একাত্তরের দিনলিপিতে ফাদার মারিনো রিগন লেখেন, ১৯৭১ সালের ১২ জুন সকাল ৮টায় ২৩ জন মিলিটারি নিয়ে একটা লঞ্চ জলিরপাড়ে ভিড়ল। তাদের সঙ্গে কয়েকজন বাঙ্গালিও ছিল। সৈন্যরা সমস্ত বাজার আগুন দিয়ে পোড়াল। শুধু বাজার নয়, তারা গ্রামে গ্রামে ঢুকে কলিগ্রামের ৫০টি, জলিরপাড়ের ১৮টি এবং বনগ্রামের ২৬টি বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিল। বাজারে একজন ক্যাথলিক খ্রীষ্টানকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল। কলিগ্রামের পাষাণের ছেলে রবিদাস কোনো মতে জীবন বাঁচালো। তারা কলিগ্রাম অক্সফোর্ড মিশনের সামুয়েল বিশ্বাসকেও আঘাত করলো। বনগ্রামে মিলিটারিরা ৪ জনকে হত্যা করে। শিশির, তন্ময়, উপেন দাস, বাবু মালাকার, নারায়ণ বাড়ৈ এবং আরো অনেককে আহত করল। বিকেলে তারা ধ্বংসযজ্ঞ শেষ করে ৬টি খাসি ও অনেক জিনিসপত্র নিয়ে গ্রাম ত্যাগ করল। এই বীভৎস্য ধ্বংসযজ্ঞের পর আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দেখতে গেলাম। কী করুণ সে আর্তনাদ। বাঁচার জন্য মানুষের কী আকুতি……।
মেষপালক ফাদার লুচিও চেচ্চি: যুদ্ধকালীন সময়ে একদিন দুপুর বেলা পাক-হানাদার বাহিনী তাদের গানবোট নিয়ে আমাদের গ্রামে হানা দেয়। গানবোটটি বর্তমান কারিতাস অফিসের কাছে রেখে তারা গ্রামে ঢুকে পড়ে। ঐ সময় গানবোটের শব্দ শোনামাত্র ক্যাথলিক মিশনের বড় ঘন্টাগুলো খুব বাজানো হোত যেন এলাকার জনগণ দ্রুত মিশন বাড়ি চলে আসে এবং আশ্রয় নেয়। ঐদিন সবাই মিশনে আশ্রয় নিলেও বানিয়ারচরের মিস্ত্রী বাড়ির দুই জন নারী আসতে পারেননি। এ সংবাদ শোনামাত্র ফাদার লুচিও চেচ্চি দ্রুত মিস্ত্রী বাড়ি ছুটে যান কিন্তু ততক্ষণে পাক-বাহিনী ঐ বাড়ি গিয়ে নারীদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্ধত হয়। এমতাবস্থায়, ফাদার চেচ্চি পাক সেনাদের সঙ্গে যুক্তি-তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পাক সেনারা ফাদারের গায়ে হাত তোলে। তারপরও ফাদার নাছোড়বান্দা। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুনয়-বিনয় ও অপমানিত হয়ে ফাদার চেচ্চি পাক-বাহিনীর হাত থেকে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে মিশনে নিয়ে আসেন। বিভিষিকাময় যুদ্ধের দিনগুলোতে ক্যাথলিক মিশনের ফাদার ও সিস্টারগণ আমাদের প্রতি যে প্রকৃত মেষপালকের ভূমিকায় ছিলেন এটি তারই একটা উদাহরণ। এজন্য ফাদার ও সিস্টারদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
বিশপ দান্তের ক্রুশ: আমার বাবা তুফান বিশ্বাস তখন মাছের ব্যবসা করতেন। চারিদিকে যখন হাহাকার, অনিশ্চয়তা এবং জীবনের ঝূঁকি তখন একটা বড় ক্রুশ (প্রায় ৯ ইঞ্চি লম্বা) তিনি সহ তার সহকর্মীদের জীবন-জীবিকাকে দিয়েছিল নিরাপদ আশ্রয়। ঐ ক্রুশটি তিনি পেয়েছিলেন খুলনা ধর্মপ্রদেশের প্রথম ধর্মপাল বিশপ দান্তে বাত্তাগ্লিয়েরিণ এসএক্স। দেশে তখনও যুদ্ধ শুরু হয়নি। এটা সম্ভবতঃ ১৯৬৯/১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাস। একদিন ফাদার আন্তন চকসিং থেকে ফেরার পথে অনেকগুলো পাখি শিকার করেন। ঐ পাখিগুলো তিনি আমার বাবাকে দিয়ে খুলনার বাবুখান রোডে অবস্থিত সেন্ট যোসেফস্ ক্যাথিড্রালে বসবাসরত বিশপ দান্তের কাছে উপহারস্বরূপ পাঠান। খুলনা থেকে ফিরে আসার সময় বিশপ দান্তে বাবাকে ঐ ক্রুশটি দিয়েছিলেন। বাবাও ক্রুশটি পরম যতেœ রেখেছিলেন। যুদ্ধকালীন সময়ে বাবা যখনই মাছ কেনা-বেছার জন্য বাইরে যেতেন তখনই তিনি ঐ ক্রুশটি গলায় পড়ে নিতেন। আবার নিরাপদে ফিরে আসতেন। একবার তিনি ক্রুশটি ভূলবশতঃ সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেননি; এজন্য তাকে বড় রকমের খেসারতও দিতে হয়েছিল: সেবার পাক মিলিটারিদের ভয়ে মাছ ভর্তি নৌকা মাঝ-পথে ডুবিয়ে দিতে হয়েছিল।
টিনের তৈরী ক্রুশের ব্যবহার: মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে প্রতিবেশী দেশ ভারত আমাদের প্রতি অকুন্ট সমর্থন ও সহমর্মীতা প্রকাশের পাশাপাশি নানাভাবে সহযোগিতা প্রদান করে। এজন্য পাক-হানাদার বাহিনী হিন্দুদের প্রতি প্রবল আগ্রাসী হয়ে ওঠে এবং তাদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করায় এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ঢাকায় অবস্থিত খ্রীষ্টান দেশগুলোর দূতাবাসের তীক্ষè নজরদারীর কারণে পাক-বাহিনী খ্রীষ্টানদের প্রতি ততটা আগ্রাসী ছিল না। এজন্য যখনই পাক-হানাদার বাহিনী আমাদের এলাকায় হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে এসেছে ততবারই তারা মুক্তিযোদ্ধা সহ হিন্দুদের উপর আক্রমণ করেছে এবং তাদের হত্যা করেছে। এমতাবস্থায়, গ্রামের খ্রীষ্টভক্তগণ হিন্দু ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ান এবং বিভিন্ন ঘরের চালের টিন কেটে তা দিয়ে ক্রুশ বানিয়ে তাদেরকে দেন যাতে হানাদার বাহিনীকে এটা বুঝানো যায় যে, এরা সবাই খ্রীষ্টান। অনেকে আবার ঘরের চালে টিনের ক্রুশ বানিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন যাতে বুঝানো যায় যে, এটি খ্রীষ্টানদের বাড়ি। তখন একটা ক্রুশের জন্য অনেক দূর থেকে অখ্রীষ্টান লোকেরা খ্রীষ্টান ধর্মানুসারীদের কাছে আসতেন এবং ক্রুশের চিহ্ন করা শিখতেন।
বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা গ্রহণ: দিনের আলোতে ফাদার মারিনো রিগন একজন পুরোহিত হলেও রাতের আঁধারে বনে যান একজন পুরোদস্তুর মুক্তিযোদ্ধা। বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশনে একটা ছোট চিকিৎসাকেন্দ্র (ডিসপেন্সারী) আছে যা এখনো আপামর জনসাধারণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। রাত গভীর হলে আহত মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে আসতেন। ফাদার রিগন নিজে উপস্থিত থেকে তাদের চিকিৎসা সেবা দিতেন।
ফাদার রিগন সারারাত দাঁড়িয়ে থেকে মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দীনকে চিকিৎসা সেবা দেন
ফাদার রিগন সারারাত দাঁড়িয়ে থেকে মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দীনকে চিকিৎসা সেবা দেন
খাবার এবং আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতেন। অবসর সময়ে লিখতেন একাত্তরের দিনলিপি। একাত্তরের ১৪ জুলাই মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় বৃহত্তম গেরিলা বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দীন রামশীলের সম্মুখযুদ্ধে মুখম-লে গুলিবিদ্ধ হন। গুলির আঘাতে তার ১১টি দাঁত ও চোয়ালের একটা অংশ খসে যায়। জিহ্বার একটি টুকরোও সেই সঙ্গে উড়ে যায়। ওই যুদ্ধে পাক-বাহিনীর মোট ১৫৮ জন সেনা নিহত হয়। মারাত্মক আহত অবস্থায় হেমায়েত উদ্দীনকে তার সহযোদ্ধারা নিয়ে আসেন মিশনের চিকিৎসাকেন্দ্রে। ফাদার রিগন সারারাত দাঁড়িয়ে থেকে হেমায়েত উদ্দীনকে চিকিৎসা সেবা দেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধের সময় হেমায়েত উদ্দীন ভারতে না গিয়ে ৫৫৫৮ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্পূর্ণ স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ দেন এবং পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যুদ্ধের পর তাকে বীর বিক্রম উপাধি দেয়া হয়। তার গেরিলা বাহিনী খুলনা, বরিশাল, মাদারিপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর এবং গোপালগঞ্জ অঞ্চলে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছে। বীর বিক্রম হেমায়েত উদ্দীন এখনো ফাদার মারিনো রিগনকে দেবতুল্য জ্ঞান করেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সম্মুখ যুদ্ধে প্রচ-ভাবে আহত হওয়ার পর আমার জীবন সায়াহ্নে উপরে ছিল ঈশ্বর আর নীচে ছিল ফাদার মারিনো রিগন। ফাদারের অকৃত্রিম সেবা-যতেœ আমি ঐ সময় নিশ্চিৎ মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসি আর এখনো বেঁচে আছি। ফাদার মারিনো রিগনের কথা শুনে তিনি আবেগ-আপ্লূত হয়ে পড়েন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফাদারের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন।
পুকুরপাড়ে আশ্রয় গ্রহণ: জন্ম তারিখ (৯-৯-১৯৬৭) অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল মাত্র ৪ বৎসর। তাই তখনকার কিছু কিছু ঘটনা আমার বেশ মনে আছে। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ি আমাদের গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় হওয়ায় এ অঞ্চলে পাক-হানাদার বাহিনীর অমানুষিক নির্যাতন চলে। চলে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ, লুন্ঠন ও বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়া সহ আরো অনেক অনাচার। গ্রামাঞ্চলের মানুষ তখন প্রাণ ভয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করেছেন। যে যেখানে পেরেছেন আশ্রয় নিয়েছেন। তখন এ কথা সবাই জানতো যে, পাক সেনারা সাঁতার কাটতে জানে না। এজন্য আমার দাদু আমাদের সবাইকে কলিগ্রামে তার বাড়িতে নিয়ে যান। কলিগ্রাম মহিষতলি বিলের ঠিক মাঝখানে মামাদের বড় বড় দুটি পুকুর আছে। সেই পুকুর পাড়ে আগে থেকেই মামাবাড়ির লোকজন বাঁসের তৈরী বায়না ও বিছালি দিয়ে ঢিবিরি মত করে থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। তখনও বিলে অনেক পানি। তাই নৌকায় চড়ে আমরা সেখানে যাই আর আশ্রয় নিই। আমার বেশ মনে আছে যে, তখন আমার দাদু ও মামারা তাদের পুকুরের মাছ ধরতো আর তা তিন বেলা খাওয়া হোত। মাঝে মাঝে রাতের বেলা দাদু বাড়ি গিয়ে ঘর-বাড়ির অবস্থা দেখে আসতেন। এ ছাড়াও আমরা ঐ সময় একবার নৌকাযোগে কদমবাড়িতে অবস্থিত এক আতœীয়-বাড়ি আশ্রয়ের জন্য গিয়েছিলাম।
এলাকার যুবকদের প্রশংসনীয় ভূমিকা: আমাদের এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা তখন উদীয়মান যুবক ছিলেন এবং লেখা-পড়া করছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জ্ঞানরঞ্জন হীরা, প্রবাস হীরা, মাখন হালদার, রুহিদাস হালদার, মহেন্দ্র হালদার, অমর বৈরাগী, যতিশ সরদার, বিভুদান বৈরাগী, রবীন বাড়ৈ, কেশব বালা, নীরু ম-ল এবং আরো অনেকে। মাখন হালদার তখন বন্দুক ধরণের কিছু একটা নিয়ে এলাকায় অন্যদের নিয়ে টহল দিতেন। অন্যদিকে মহেন্দ্র হালদার, জ্ঞানরঞ্জন হীরা ও প্রবাস হীরা সহ অন্যরা এলাকায় পাক সেনাদের গানবোট আসলো কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতেন এবং গ্রামের মানুষকে সতর্ক করতেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ অল্প অল্প উর্দূ ভাষা জানতেন। ফলে তারা সহজেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাক সেনাদের বোকা বানাতে পারতেন। যেমন: হিন্দুদের খ্রীষ্টান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, এ অঞ্চলকে খ্রীষ্টান এলাকা হিসেবে প্রমাণ করা ইত্যাদি। এরূপ আরো অনেক ঘটনা আছে যেখানে তারা সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে কেউ কেউ এটিকে ভিন্নভাবে বলার চেষ্টা করেন। এ রকম একই ভূমিকা নিয়েছিলেন কলিগ্রামের পশ্চিম পাড়াস্থ ব্যাপ্টিষ্ট চার্চের সদস্য স্বর্গীয় শান্তিরঞ্জন বৈরাগী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় একদিন পাক-বাহিনী কলিগ্রামে আক্রমন চালায় এবং বহু ঘর-বাড়ি জ¦ালিয়ে দেয়। হামলা চালাতে চালাতে সেনারা পশ্চিম পাড়ায় গিয়ে হাজির হয় এবং শান্তিরঞ্জন বৈরাগী’র বাড়ির উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত স্বর্গীয় খগেন্দ্রনাথ বৈরাগী’র বাড়িতে আগুন দিতে উদ্দ্যত হয়। এরূপ অবস্থায় ¯শান্তিরঞ্জন বৈরাগী দৌড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হন এবং পাক সৈন্যদের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে বলতে থাকেন: ‘এ খ্রীষ্টান বাড়ি হায়’। তখন সঙ্গে সঙ্গে পাক-বাহিনী আগুন দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং যতটুকু আগুন দিয়েছিল তা নিভিয়ে ফেলে।
মিশন ও গীর্জায় আশ্রয়দান: প্রভুর গৃহ সবার জন্য উন্মুক্ত। কথাটির মর্মার্থ আরো বেশী দীপ্তমান হয়ে উঠেছিল যখন এ দেশের মানুষের উপর বর্বর পাক-হানাদার বাহিনীর মরণাঘাত এসেছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ি এ অঞ্চলে হওয়ায় এখানকার মানুষের উপর নির্যাতনের মাত্রা অনেক বেশী ছিল। এজন্য এ এলাকার সাধারণ জনগণ ছিল খুবই অসহায় ও বিপদাপন্ন। তখন প্রায়ই পাক-সেনারা এলাকায় হানা দিতো। এ সময় বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশনের ফাদার ও সিস্টারগণ দেবদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং প্রকৃত মেষপালকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যখনই এলাকার মানুষ বিপদাপন্ন হয়েছে তখই তারা আপামর সকল হিন্দু-খ্রীষ্টান জনগণের জন্য চার্চের দরজা খুলে দিয়েছিলেন এবং তাদের যতœ নিয়েছিলেন। চার্চ যখন লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠতো তখন তারা মিশন ক্যাম্পাসের রাইস মিলটি জনগণের জন্য খুলে দিয়েছিলেন। অসহায় মানুষেরা তখন চার্চে ও মিশন ক্যাম্পাসে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিল। এলাকায় পাক-বাহিনীর গাটবোটগুলোর আসার শব্দ শোনা মাত্র ক্যাথলিক মিশনের গীর্জার বড় বড় ঘন্টাগুলো বেজে উঠতো যাতে এলাকার মানুষগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যেতে পারেন এবং মিশনে সময়মত চলে আসতে পারেন। এই ঘন্টাগুলো তখন দারুন কাজ করেছিল।
বুড়াবুড়িদের ঘর-বাড়ি পাহারা: গীর্জার ঘন্টা-ধ্বনি শুনে যখন লোকজন বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় ও মিশন বাড়িতে আশ্রয় নিতো তখন বাড়িগুলোর পাহাড়ায় থাকতো বাড়ির বৃদ্ধ-বৃদ্ধাগণ। তারা নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করতেন। পাক-বাহিনীর সদস্যরা এদের উপর কোনরূপ ঝামেলা করতো না। মা’র কাছে শুনেছি যে, আমাদের বাড়ির পাশে হালদার বাড়ি পাহারা দিতেন স্বর্গীয় রবি হালদার ও তার স্ত্রী, আমাদের বাড়িতে থাকতেন আমার স্বর্গীয় ঠাকুর মা, সাহা বাড়ি পাহারা দিতেন স্বর্গীয় সতীশ সাহা ও তার স্ত্রী। এভাবে প্রত্যেক বাড়িতেই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাগণ অবস্থান করতেন এবং সব কিছু দেশে-শুনে রাখতেন। পাক সেনারা যখন বাড়ি বাড়ি হানা দিতো তখন বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের তারা ধমকের সুরে বিভিন্ন কথা জিজ্ঞেস করতো এবং বাড়ি থেকে এটা ওটা (যেমন: ছাগল, ভেড়া, মুরগি সহ গাছের ডাব ও নারকেল) নিয়ে যেতো। একদিন দুপুর বেলা মা তখন ভাত রান্না করছিলেন এমন সময় গীর্জার ঘন্টা বেজে উঠলো। মা তাড়াতাড়ি ভাতের পাতিল মাড় ঝড়ানোর জন্য উবুড় করে রেখে অন্য সবার সঙ্গে মিশন বাড়ি চলে যান। ফিরে এসে দেখেন ভাতের পাতিল ঠিক যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই আছে। বাড়ির কুকুর ও বিড়ালগুলোও তখন মানুষের পাশে থেকে সহানুভূতি প্রকাশ করেছিল। সেগুলো মানুষের কোনরূপ ক্ষতি সাধন করতো না।
উপসংহার: মধুমতি বিলরুট ক্যানেল বিধৌত বানিয়ারচর ক্যাথলিক মিশন মুক্তিযুদ্ধের সময় যে গৌরবোজ্জল ভূমিকা পালন করেছে সেজন্য আমরা সবাই আমাদের মিশনের জন্য গর্বিত। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এবং স্বাধীনতার পরবর্তীতে যে সকল জাভেরিয়ান ফাদার ও এসএমআরএ সিস্টারগণ নিজেদের জীবন মানুষের সেবায় বিলিয়ে দিয়েছেন তাদের সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আশা করি নতুন প্রজন্ম আমাদের ক্যাথলিক মিশনের অতীত ইতিহাসে গর্ববোধ করবে এবং নিজ নিজ ধর্ম পালনে আরো বিশ্বস্ত হবে।
সৌজন্যেঃ নিকোলাস বিশ্বাস।
Monday, August 1, 2016
আইএস এর পরবর্তী লক্ষ রাশিয়া - ভিডিও বার্তা।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ
এবার রাশিয়ায় ইসলামিক ষ্টেট (আইএস) হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। নয় মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় আইএস রাশিয়ায় হামলা চালানোর এ আহবান করে। ঐ ভিডিও তে দেখা যায় মরুভূমিতে চলন্ত গাড়িতে এক ব্যক্তি চিৎকার করে বলছে কথা বলছে এবং ভিডিও এর শেষ দিকে ষ্পষ্ট করেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলছে, ‘পুতিন শুনে রাখো, আমরা শীঘ্রই রাশিয়াতে আসছি এবং তোমাকে নিজ বাসাতেই হত্যা করব।’ পরে অবশ্য তারা তাদের সহযোদ্ধাদের লক্ষ করে বলেছে, ‘ভাইয়েরা, জিহাদ শুরু করো, হত্যা করো এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর।’ নয় মিনিটের এই ভিডিওটি ইউটিউব এ পোষ্ট করা হয়েছে।
সাব-টাইটেলসহ ঐ ভিডিও এর একটি অংশে দেখা যায় যে সশস্ত্র ব্যাক্তিরা একটি সাঁজোয়া যান ও তাঁবু লক্ষ করে হামলা চালাচ্ছে এবং আশে পাশে থেকে (মরুভূমি) অস্ত্র সংগ্রহ করছে। সা্ব-টাইটেলে আরো লেখা ছিল, দক্ষিণ আকাশাতের আর্ন্তজাতিক সড়কে রিজেকশনিষ্ট সেনাবাহিনীর (যারা ইসরায়েলের প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি প্রত্যাখান করে) একটি ব্যারাকে এই হামলা।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে এই ভিডিও টি আিইএস এর কিনা তা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবে তারা ভিডিওটি যে মাধ্যম ‘টেলিগ্রাম’ মেসেজিং একাউন্ট থেকে পোষ্ট করেছে তা আইএস প্রায়শই ব্যবহার করে থাকে।
অন্যদিকে পরবর্তী আই্এস হামলা বা হামলার লক্ষ্যবস্তু রাশিয়া কিনা তাও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তবে অনেক বিশেষজ্ঞরােই ধারণা করছে যে, বর্তমানে রাশিয়া আইএস নিধনে যে ভূমিকা রাখছে এবং সম্প্রতি আইএস ও আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যে সামরিক লড়াই এবং আমেরিকার সাথে যে গোয়েন্দা নজরদারি ও সহভাগিতার বিষয়ে আলোচনা করছে - তাতে পরবর্তী হামলা যে কোন স্থানে বা যে কোন সময় হবে পারে বলে অনেকে অনুমান করছে।
পরবর্তী আর কি ধরনের নতুন আপডেট আসে তা সবার আহে জানার জন্য আমাদের এই নিউজে লাইক, শেয়ার ও মতামত দিয়ে সাথে থাকুন।
Location:
Russia
Sunday, July 31, 2016
মৌলভীবাজারে ১৮ বছরের নিচে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ
১৮ বছরের নিচে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন। এসব শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল পাওয়া গেলেই পুলিশ ওইসব সামগ্রী জব্দ করে থানায় নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের মার্কেট, রেল স্টেশন, বাস স্টেশন ও অলিগলিতে অযথা ঘোরাঘুরি করতে পারবে না বলেও জানায় জেলা প্রশাসন। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মাদ শাহীন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধসহ বাড়িতেও এ ব্যাপারে দেখভাল করতে অভিভাবকদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। মোবাইলের পাশাপাশি ফেসবুকেও আসক্তি বাড়ছে ছাত্র-ছাত্রীদের। এগুলো শিক্ষার ওপর বিরূপ ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অভিভাবকরা মনে করছেন, সন্তানকে মোবাইল দিয়ে কখন কোথায় আছে খোঁজ নেবেন। সে তাদের মুঠোবন্ধি হয়ে আছে। অভিভাবকরা ভুল মনে করছেন। বরং মোবাইল দিয়ে সন্তানকে তাদের কাছ থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছেন। তারা একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, তার সন্তান যখন মোবাইল ব্যবহার করে সে উদাসীন হয়ে যায়, সে কোথায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছে পরিবারের কেউ ভাবতেও পারছেন না। হয়তো অভিভাবকরা মনে করছেন, তাদের সন্তানরা মোবাইলে গেম খেলছে। তারা একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবে সে কিসে ডুবে আছে। সে শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার, ইমো তে নেই, একটু খেয়াল করলেই দেখবেন সে ইউটিউব, গুগল ইত্যাদি মাধ্যমে প্রবেশ করে। এতে পরিবারের সন্তানরা নিজেদের অজান্তে ভুল পথে পা বাড়ায়, তখন সে পরিবারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মোবাইলের অপব্যবহারের কারণে ছাত্ররা ইভটিজিং, বখাটেপনাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তাই সমাজের পরিবেশ শান্ত রাখতে ১৮ বছরের নিচে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহার থেকে দূরে রাখুন।
সৌজন্যেঃ কালের কণ্ঠ।
This will save the children life. It is a good initiative by the Moulovibazar DC. Let all the DC take the initiatives.
Need program as:
1. Awareness at School level;
2. Awareness to Parents;
3. Initiate the cultural program and sports frequently.
কল্যানপুর অভিযান-বিতর্ক্ ও বিশ্লেষণ
কল্যানপুর জঙ্গী আস্তানায় অভিযান নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছে, সন্দেহ প্রকাশ করছে, তর্ক-বির্তক হচেছ্। কিন্তু আমি এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত নয় যে আসলে কি সন্দেহ। বিতর্ক হচেছে। এটা কেন এমন হলো, ওটা কেন এমন হলো না, এটা কেন বলল, পোষাক কেন এমন ছিল, পিঠে কেন গুলি লাগল, হাতে কেন ছুরি ছিল, জঙ্গিরা কেন বাইরে গ্রেনেড চার্জ করে নাই, রাতে কেন অভিযান হলো না ইত্যাদি আরে কতো প্রশ্ন। আসলে এ প্রশ্নগুলো সৃষ্টি করে প্রশ্নকারীরা আসলে কি বলতে চাইছে বা বুঝাতে চাইছে তা কি কারো কাছে পরিষ্কার কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না। মাথামোটা এবং গোবর গণেশ কিছু বুদ্ধিমান, কিছু জঙ্গীদের সহায়তাকারীরা এটা করছে। এমন লোকেরাতো প্রশ্ন করবেই।
গ্রামে থাকতে ছোট বেলায় মাঝে মাঝে বড়রা যখন কথা বলতেন, তাস খেলতেন বা কোন জায়গায় বসে কথা বলতেন, বা কোন জায়গায় বিচার হচ্ছে সেখান থেকে অনেক উদাহরন শোনতাম। অনেক ভুলে গেছি আর কিছু কিছু আবছা মনে আছে। কোন এক জায়গায় এমনই একটা উদাহরণ শুনেছিলামঃ
গ্রামে কারো নতুন বিয়ে করা বউকে নিয়ে যখন বাড়ী থেকে বের হয় তখন বউকে সমেনে হাটতে দিয়ে স্বামী পিছনে থাকলে লোকে বলে বউকে বেশী প্রধান্য দিচ্ছে। আবার যদি বউ এর সাথে সাথে (সমানে সমান) হাটে তবে বলে দেখ পিরিত কতো বা বউটা কত বেহায়া স্বামীর সাথে সাথে হাটে - সম্মানবোধ বলতে কিছু নাই। এই বউ ছেলেটার মাথা একদিন খাবে। এ রকম নানা কথা। আবার যদি বউকে পিছনে রেঝে হাটে তবে আবার কিছু কিছু লোক বলে যে পিছনে থেকে বউ হারিয়ে যাবে। স্বামটিা কি বলদ। অথবা বউ পিছনে বসে কারে সাথে কথা বলবে বা বলছে। গল্পটির মূল শিক্ষণীয় হলোঃ
সামনে হাটলে দোষ, সাথে হাটলে দোষ আবার পিছেনে হাটলেও দোষ। তো ঐ বউ বা স্বামী যাবে কোথায়? তাই আমি বা আমরা লক্ষ করছি যে কল্যানপুর অভিযান কে আমাদের কিছু বুদ্ধিজীবি (?) মাথা মোটা লোক যারা সমাজে নিজেদের অনেক জ্ঞানী বলে মনে করে তার আসলে কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক তাই-ই মনে হয় বুঝে উঠতে পারে না। আর অযথা একটা তর্ক্ বাধিয়ে দেয় আর দূরে বসে খেলা দেখে আর মিটিমিটি হাসে আর ভাবে কাম একখান কইরা ফ্যালাইছি।
আমাদের দেশের এক শ্রেনীর বুদ্ধিজীবি (?) বা কিছু রাজনৈতিক দল বা নেতারা যা বলছেন এবং কল্যানপুর অভিযান নিয়ে যেসব প্রশ্ন অবতারণা করছেন তা দেখলে ও শুনলে বড় কষ্ট হয়। তারা অভিযান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের অবতারনা করছেন। যেমন এক সময়ের একটি বড় রাজনৈতিক দলের পতিত নেতা তো বলেই বসেছেন যে জঙ্গী মারা গেছে নাকি সাধারন মানুষ তা তিনি ষ্পষ্ট নয়। তার কাছে আমার উল্টা প্রশ্ন ‘যারা মারা গেছে তাদের তো আপনিও দেখেছেন, তাতে কি আপনার মনে হয় হয়েছে যে ওরা জঙ্গি না? আর যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তাদের কারো পরিবার কি দাবী করেছে যে তার ছেলে জঙ্গী না? বা কোন পরিবার কি এখনো পর্যন্ত দাবী করেছে যে তাদের ছেলেকে ঘর থেকে তুলে এনে ওখানে গুলি করে মারা হয়েছে? কই এমন দাবীতো কেউই এখন পর্যন্ত করে নাই। বরং প্রত্যেকেই বা প্রত্যেকটি পরিবারই দাবী করেছে যে তাদের ছেলেরা তাদের পরিবার থেকে বেশ কয়েক মাস থেকেই বিচ্ছিন্ন বা নিখোঁজ। তো জনাব হান্নান সাহেব আাপনার কিভাবে মনে হলো যে যারা মারা গিয়েছে তারা জঙ্গী নয় সাধারণ মানুষ? আপনাকে শুধু বলতে চাই যে যা কিছু বলবেন চিন্তা করে বলবেন হাস্যকর বা জাতি বিভ্রান্ত হয় এমন কিছু বলবেন না। আর এটাও মনে রাখবেন আপনাদের কথায় বেশীর ভাগ মানুষই বিশ্বাস করে না।
কেউ কেউ বলছেন যে এটা একটা নাটক। এতে নাটকের কি আছে তা অন্তত আমার শুধু আমার নয় অনেকেরই বোধগম্য নয়। দয়া করে যদি আপনার নাটকটি কি ষ্পষ্ট করে বলেন তবে হয়তো জাতি বড়ই উপকৃত হবে। নাটক বলতে কি বুঝিয়েছেন? ওখানে কি কোন জঙ্গী ছিল না? নাকি ওদের বাইরে থেকে গুলি করে ওখানে আগে থেকেই রেখে এসেছিল? আসলে নাটক বলতে কি বলতে চেয়েছেন তা জাতির কাছে ষ্পষ্ট নয়। জাতি আপনাদের নাটকের কথা জানতে চায়। আর যদি তা প্রমাণ করতে না পারেন তবে দয়া করে এই বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের জন্যে জাতির কাছে মাফ চান, ক্ষমা চান, আর কান ধরে প্রতিজ্ঞা করেন যে ভবিষ্যতে এমন অর্বাচীন বক্তব্য দেবেন না।
পোষাক নিয়ে কথা বলেছেন। বেশ ভাল কথা। যখন রাত ১২/১২:৩০ টার দিকে প্রথম পুলিশ তল্লাশীতে যায় তখন প্রথম গোলাগুলি হয় এবং একজন পুলিশ আহত হয়। তো যারা প্রশ্ন করেছেন যে জঙগীদের কি রাতের পোষাক কালো পাঞ্জাবী আর পায়জামা কিনা? এটা কোন প্রশ্ন হলো? জঙগীরা কখন কি পড়বে না পড়বে তাকি পুলিশের কাছে লিষ্ট পাঠিয়েছে নাকি? আপনারা যারা প্রশ্ন করছেন তাদের যদি জানা থাকে তবে বলেন যে ওদের তো এখন বা তখন ঐ পোষাক পড়ার কথা ছিল না। তবে কেন ঐ পোষাকে? আর আপনি যদি জানেন যে তারা কখন কোন পোষাক পড়বে তো আপনি বলেন। ওঃ আপনি বা আপনারা যারা প্রশ্ন তুলেছেন তারাতো আর এতো বোকা না যে বলবেন। তাহলেতো আপনাদের রূপ ধরা পড়ে যাবে। তবে আমার বিশ্বাস আপনারা জানলেও জানতে পারেন। তা নাহলে প্রশ্ন করবেন কেন? আর প্রথম আক্রমণের পরে জঙ্গীরা অনেক সময় পেয়েছে। ঐ সময় তারা একই পোষাক সবাই পড়তে পারে। নাকি আপনি মনে করেছেন যে ঐ সময় (প্রথম আভিযানের পরে) তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছে? আপনি/আপনারা (প্রশ্ন সৃষ্টিকর্তারা) মনে করলেও সাধারন মানুষ কিন্তু তা মনে করে না। কারন এরকম পরিস্থিতিতে তারা নিশ্চয় নিজেদের বাঁচাতে চেয়েছে (যার প্রমাণ ২ জনের পলায়নের চেষ্টা), নানা মিটিং করেছে, নানা ফন্দি এঁটেছে, নানা কৌশল আবিস্কার করেছে, অনেক জায়গায় (হয়তো আপনাদের নিকট ফোনও করেছে) আরো কত কি? কাজেই তারা যে ঘুমিয়ে ছিল না বা ঘুমিয়ে সময় কাটায় নাই এটা কিন্তু একটা ৭ বছরের শিশুও বুঝে। তাই তারা ঐ সময়ে একটা নির্দিষ্ট পোষাক পড়তেই পারে এটাই স্বাভাবিক। নাকি আপনার বলতে চান যে পুলিশ তাদের আগে থেকেই পোষাক সরবরাহ করেছিল? আরে পুলিশ যদি এমন একটা পরিস্থিতিতে পোষাক বা কাপড় সরবরাহ করেই থাকে তবে তা করবে সাদা কাপড়। কেন কালো পায়জামা আর জিন্স প্যন্ট সরবরাহ করবে? আর আপনাদের যদি এমনটা মনে হয় তবে বলেন কোন দোকান থেকে পুলিশ তা কিনেছে এবং কখন কিভাবে কার মাধ্যমে সেগুলো জঙ্গীদের কাছে দিয়েছে? চুপ থাকেন কেন? আর প্রম্নকর্তারা যে কেন বুঝে না তা বোধগম্য নয়। আবার এরা নিজেদের জ্ঞানী (?), বুদ্ধিমান (?), বড় বড় রাজনীতিবিদ (?), দেশপ্রেমিক (?) ইত্যাদি মনে করে। তাই এ ধরণের প্রশ্ন তোলা শুধু মাত্র প্রকৃত ঘটনা থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
গুলি কেন পিছনে এমন প্রশ্ন বা বিতর্কও কেউ কেউ তুলেছেন। কে বলেছে যে গুলি শুধু পিছনে? গুলি তাদের অনেক জায়গাতেই আছে। আর তারা বিভিন্ন পজিশনে ছিল এবং এধরনের অভিযানে গুলি যে কোন জায়গাতেই লাগতে পারে। আর ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার কি্ন্তু বলেন নাই যে শুধু পিছনেই গুলি করা হয়েছে। তারপরও যদি পিছন থেকে গুলি করা হয়ে থাকে তাতে সন্দেহের কি আছে? নাকি যারা বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন তারা বলবেন যে অভিযানের সময় কোথায় গুলি লাগবে কোথায় লাগবে না তা প্রেসক্রাইব করা থাকবে? কেন পুলিশকে বার বার প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়? আসলে এরা (প্রশ্নকারীরা) জঙ্গীরা যে মারা গেছে তাতে খুশি না হয়ে উল্টা পথে তাদের কিছু হারানোর ব্যথাই বেশী প্রকাশ পেয়েছেন। আর তারা বেশী খুশি হতো যদি কয়েক ডজন পুলিশ মারা যেত বা ঐ বির্ল্ডিং এ যে সাধারণ বাসিন্দারা ছিল বা আশে পাশে যারা প্রতিবেশী ছিল তাদের মধ্যে অনেকে মারা গেলে খুশি হত। তাহলে তারা তা ফলাও করে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করতে পারত এবং তাদের আলোচনার একটা ভাল পয়েন্ট পেয়ে যেত।
আবার কেউ বলছেন যে কেন তাদের জীবিত ধরা হলো না? এক কথায় উত্তর হলো জীবিত যেটা ধরা সম্ভব হয়েছে সেটা ধরেছে (হাসান)। আর যাদের সম্ভব হয় নাই তাদের বাধ্য হয়ে গুলি করতে হয়েছে এবং তাতে মারা গেছে। তবে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেন যে পৃথিবীতে কয়টা উদহরন বা দৃষ্টান্ত আছে যে জঙগীদের জীবিত ধরা হয়েছে। এইতো সেদিন (কল্যানপুর ঘটনার পরে) ফ্রান্সে গীর্জা ঘরে কয়েকজনকে জিম্মি করেছেল সন্ত্রাসীরা। সেখান থেকেও তো সন্ত্রাসীদের জীবিত আটক করতে পারে নি; জার্মান পারেনি, আমেরিকা পারেনি, ভারত পারেনি। তো এতগুলো দেশ ও তাদের আইন শৃংখলাবাহিনী যখন সন্ত্রাসীদের জীবিত ধরতে পারে নি তখন আপনি কিভাবে আশা করেন যে বাংলাদেশ এ সেটা সম্ভব। বাংলাদেশ এর সোয়াত বাহিনী, পুলিশ, র্যা ব চেষ্টা করেছে যে ক্যাজুয়ালিটি যত কম হয় এবং সন্ত্রাসীরা যেন ঐ বিল্ডিং এ অবস্থানরত সাধারন মানুষের কোন ক্ষতি করতে না পারে এবং এর আশেপাশে যারা বসবাস করত তাদেরও যেন কোন ক্ষতি না হয় এবং তারা সেটা করতে পেরেছে। আর তা করতে গিয়ে যদি কয়েকজন সন্ত্রাসীদের গুলি করা লাগে তা তারা করছে। এতে তো কোন দোষের কিছু দেখি না। তবে হ্যা যদি তাদের জীবিত ধরা যেত তবে হয়তো অনেক তথ্য পাওয়া যেত। কাজেই কেন জঙ্গীদের জীবিত ধরা হলো না এমন গাধামার্কা প্রশ্ন করা মানে আপনারাই আপনাদের তামাশার বস্তুতো রুপান্তরিত করছেন।
আবার কেউ বলছেন যে মাত্র চারটি পিস্তল আর কয়েকখানা সবজি কাটা ছুরি (আপনাদের ভাষায়) দিয়ে এতগুলো আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে কিভাবে সারারাত টিকে থাকা সম্ভব। খুব সহজ হিসাব। আমাদের আইন শৃংখলা বাহিনী তাদের সাথে সারা রাত গোলাগুলি করে নি। কেবল মাত্র তাদের শক্তি পরীক্ষা এবং গোলাগুলি যেন শেষ হয়ে যায় তার জন্য কৌশল অবলম্বন করেছে। তাই তাদের শক্তি শেষ করার জন্য পুলিশ মাঝে মাঝে তাদের গোলাগুলি ও শক্তি শেষ করার জন্য এমন সব কৌশল অবলম্বন করেছে যেন তারা গুলি করতে ও গ্রেনেড ছুড়তে বাধ্য হয়। কারন আমাদের বাহিনী সিদ্ধান্তই নিয়েছিল যে তারা সকালে অভিযান করবে। আর তাদের কাছেতো অনেক গোলাগুলি ছিল তা যেমন হাসান বলেছে ঠিক তেমনি অভিযানের শেষে তাদের নিকট থেকে উদ্ধার করা পিস্তুল, গুলি, ছুরি, রামদা ইত্যাদি দেখেইতো বুঝা যায়। আপনারা এটা একেবারেই ভাববেন না যে আমাদের পুলিশের কোন উপস্থিত বুদ্ধি নাই। বরং আমাদের পুলিশ এর যথেষ্ট উপস্থিত বুদ্ধি আছে যার প্রমান দিয়েছিল হলি আর্টিজন রেস্তোরায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা। যার কিনা পিস্তুল থাকতেও বন্দুক দিয়ে থেমে থেমে গুলি করেছে যেন জঙ্গীরা পালিয়ে যেতে না পারে। অতএব প্রশ্ন অবান্তর। বিতর্ক সুষ্টি করে শুধু নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয়া বিইকি আর কিছুই না।
আর কেউ প্রশ্ন করেছেন যে তারা যখন আল্লাহু আকবর বলেছেন তখন তাদের কাছে মনে হয়েছে যে সেখানে ২০/২৫ জনের কণ্ঠ বলে মনে হয়েছে। তবে আমার যেটা মনে হয় তা হলো প্রথম যখন আল্লাহু আকবর তারা বলেছিল তখন হয়তো আশেপাশের আরো অনেকেই কণ্ঠ মিলিয়েছিল – যা সাধারনত করে থাকি। এর কারন হলো প্রথম অবস্থায় জনগণ বুঝতে পারে নাই যে আসলে জঙগীরাই আল্লাহু আকবর উচ্চারণ করেছে। দ্বিতীয়তঃ বন্ধ জায়গায় যদি কম শব্দও হয় তবে তা খুব বেশী মনে হয়। তৃতীয়তঃ ওখানে হয়তো অন্য মেসে তাদের সহযোগী ছিল বা থাকতে পারে। তারাও হয়তো আল্লাহু আকবর বলায় অংশ নিয়েছিল। তবে সবই অনুমান ভিত্তিক।
কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন যে পুলিশ কর্মকর্তা কিভাবে বললেন যে জঙ্গীরা মনে হয় শিক্ষিত, ভাল পরিবারের যা তাদের পোষাক, কথাবার্তা ইত্যাদিতে বুঝেছেন। আর কেউ কেউ এতে মনে হয় মওকা পেয়েছেন। তবে মনে করি মওকা পাওয়ার কোন বিষয় না। কারন যক্তিবিদ্যায় কিন্তু অনুমান ও অভিজ্ঞতা বলে কিছু বিষয় আছে। তাই উনি যদি অনুমান নির্ভার হয়ে এবং কিছু অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যদি এরকম কিছু একটা বলেন তাতে তো মনে হয় না যে ঐগুলোই সব। তিনি কিন্তু যে কথা দিয়ে বক্তব্য শেষ করেছেন তা হলো আমাদের তথ্য্-উপাত্ত সংগ্রহ চলছে পরে আরো বিস্তারিত জানানো হবে। আর এটা বলার জন্য কোন পিএইডি ডিগ্রী লাগে না। আপনিও একজন কৃষক দেখলে চিনবেন, একজন রিক্সাওয়ালা দেখলে চিনবেন, একজন ফেরিওয়ালা দেখলে চিনবেন, আবার একজন শিক্ষিত লোক দেখলেও চিনবেন। এটা চিনতে খুব বেশী দেয জ্ঞানী, বা লেখাপড়া জানা বা একেবারে চৌকষ হতে হবে তা কিন্তু নয়। আমরা কিন্তু একটা লোকের চেহারা, পোষাক, কথার ধরন (যা তার রাতে বারান্দায় এসে পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেছে) তা থেকেই কিন্তু অনুমান করা যায়। আর আপনি যদি যুক্তিবিদ্যা পড়ে তাকেন তবে জানবেন সব কিছুই অনুমান নির্ভর। যেকোন যুক্তি প্রথমে উপস্থাপন করতে হলে আগে তার একটা অনুমান দরকার। অনুমান ছাড়া কোন যুক্তি দাঁড় করানো যায় না। কাজেই অনুমান, অভিজ্ঞতা, তাদের জ্ঞান দিয়ে বলেছে তাতে সমস্যাটি কোথায়?
যাই-ই হোক। এতক্ষণ প্রশ্ন ও তর্কের বিষয়গুলো আলোচনা করতে চেষ্টা করলাম যা হয়তো খুবই দুর্বল। এ থেকে হয়তো কেউ এমন বড় বা অকাট্য কোন খন্ডন খুঁজে পাবেন না। তারপরও আমার এ রকম মনে হয়েছি তাই লিখছি। তবে আমার ছোট একটা বিষয় মনে শুধু খচখচ করছে। আর তা হলো এত পুলিশ বেষ্টনী, এত কর্ডন, এত আইন-শৃংখলাবাহিনী যারা কিনা পুরো এলাকা ঘিরে ছিল তাদের মধ্যে দিয়ে বা তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে একজন জঙ্গী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো। তবে কি কর্ডনে বা ঘেরাও এ বা ঐ বিল্ডিং বা পাশের বির্ল্ডিংগুলো থেকে তাদের উপর কোন নজর রাখা হয়নি? বলা হয়েছে যে তারা পাশের একটি বির্ল্ডিং এ লাফিয়ে পড়ে ছিল? সেখান থেকে হাসানকে গুলিবিদ্ধ করে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আর অন্যজন পালিয়ে গিয়েছি। পরে জানতে পারলাম যে সেই-ই ছিল ঐ দলের নেতা যে কিনা তাদের সব থাকা খাওয়া ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকত। তো এতে কি মনে হতে পারে না যে কোথাও না কোথাও অথবা কোন না কোন ভাবে ঐ বাড়ী বা এলাকা ঘিরে রাখার মধ্যে কোন দৃর্বলতা ছিল। আমরা তো জানি যে মাত্র একজন পালাতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এটা কি অনুমান করা খুবই অযৌক্তিক হবে যে ঐ সাথে বা ঐভাবে আরো জঙগী কি ওখান থেকে ঐ রাতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে কিনা? যেহেতু একজন পালাতে সক্ষম হয়েছে – সেহেতু আরো হয়তো কেউ পালালে পালাতেও পারে। তবে আমার বিশ্বাস হয়তো আর কেউ-ই পালাতে পারেনি।
তাই পরিশেষে প্রশ্নকারীদের বা বিতর্ক্ সৃষ্টিকারীদের শুধু একটা গল্প বলবঃ এক ব্যাক্তির একটা গাধা ছিল। আর সে একদিন তার বউ (স্ত্রী) নিয়ে দূরে বেড়াতে যাবে বলে স্থির করল। যথারীতি সাথে গাধাটিও নিল। প্রথমে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই গাধার পিঠে উঠল। তাতে দেখা গেল যে কিছুলোক বা যারা দেখছিল তার বলল যে-লোকটা কি নিষ্ঠুর। একটা গাধার পিঠে দু’জন চড়ে যাচ্ছে। এই কথা লোকটা শুনল এবং নিজে গাধা থেকে নেমে শুধু তার স্ত্রীকে পিঠে রেখে আবার চলা শুরু করল। তাতে আবার কিছু লোক বলাবলি করল যে কেমন পুরুষ। স্ত্রীকে গাধায় চড়িয়ে নিচেছ আর নিজে হেঁটে যাচ্ছে। এ কথা শোনার পরে লোকটা এবার তার স্ত্রীকেও গাধা থেকে নামিয়ে দু’জনে হাঁটতে লাগল। আর তাদের সাথে গাধাকেও হাটিয়ে নিতে শুরু করল। এবার গাধার পিঠে কিন্তু কিছুই নেই। তাই এবার আবার যারা দেখছিল অথবা তাদের মধ্যে কিছু লোক বলাবালি করতে শুরু করল যে, লোকটা কি বোকারে! গাধা থাকতে তারা পায়ে হেঁটে যাচ্ছে কেন। বেচার পুরুষ কোন দিকে যাবে। আমাদের সমাজে-দেশে-রাষ্ট্রে, বাড়ীতে, রাজেনৈতিক দলসমূহে কি ঐ রকম লোক নাই? অবশ্যই আছে। কারন তারা কখনো ভালোটা দেখতে চায় না বা পারে না। আমাদের ঐ প্রশ্নকর্তা ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিবিদ, জঙ্গীদের সহায়তাকারীরা কখনোই কোন কাজের মধ্যে ভাল কিছু দেখতে পারে না বা চায় না। তাই আসুন আমরা কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলতে শিখি।
-শৌল বৈরাগী।
Saturday, July 30, 2016
বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি।
বন্যায় বাংলাদেশ।
চলতি বছরে জুলােই মাস শেষ হতে না হতেই দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারন করেছে।দেশের উত্তরা্ঞ্চলের প্রায় সবগুলো জেলার যেমন সুনামগঞ্জজ, রংপুর, নেত্রকোণা ইত্যাদি ও তার জনগণ এখন জান-মাল রক্ষার্থে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। অনেকেই ঘর বাড়ী ছেলে সংসারের যতটুকু পারছে আসবাপত্র ও গরু ছাগল নিয়ে কো্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে। পাচ্ছে না বিশুদ্ধ খাবার পানি এমনকি পেট ভরে খাবার।বন্যা দুর্গতরা বাংলাদেশ এর টিভি চ্যানেলগুলোর সাংবাদিকদের কাছে প্রায়শঃ অভিযোগ করে যাচ্ছে যে তারা নূন্যতম সহায়তা পাচ্ছে না। তার উপরে আছে সাপের ভয়। কেউ কেউ আবার বাড়ী ঘর না ছেড়ে কলাগাছ বা অন্য কোন উপায়ে পানির উপর ভাসছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে যে বন্যা দুর্গত এলাকাতে যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণ পাঠানো হয়েছে এবং হচ্ছে। আর সরকার কঠোর ভাবে তার নেতা কর্মী ও সরকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে যদি কোন রকম অনিয়ম হয় তবে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।। বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধদের।
বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী সময়ে এদের সহায়তা একন্ত প্রয়োজন যেন তার আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
আইএস নিধনে একাই নামছে পুতিন বাহিনী
আইএস নিধনে একাই নামছে পুতিন বাহিনী
রাশিয়ায় যদি একটা বোমা ফেলে আইএস, তাহলে পরের আধ ঘণ্টায় পৃথিবীর সমস্ত ইসলামি জঙ্গিকে নিকেশ করব। রীতিমত হুমকি দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
শোনা যাচ্ছে, আইএস জঙ্গিদের স্বঘোষিত রাজধানী সিরিয়ার রাক্কা শহর দখল করতে বিশাল সমরসজ্জা করছেন। বিমান, কামান ছাড়াও দেড় লাখ বাছাই করা রুশ যোদ্ধা থাকবে হামলায়। গত বছর প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পরও ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে আইএস বিরোধী যৌথ অভিযানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুতিন।
কিন্তু ইউরোপীয় নেতৃত্ব ইতস্তত করেছিল রাশিয়াকে সঙ্গে নিতে। আমেরিকাও কোনো আগ্রহ দেখায়নি। তাই এবার একাই আইএস নিধনে নামছে পুতিনের বাহিনী।
বাংলাদেশে আইএস নেই, অন্য কেউ উসকে দিচ্ছেঃ বার্নিকাট
বাংলাদেশে আইএস নেই, অন্য কেউ উসকে দিচ্ছেঃ বার্নিকাট
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে বাংলাদেশে চিহ্নিত কোনো আইএস নেই। তবে এখানে জঙ্গিবাদ উসকে দিচ্ছে বাইরের কেউ। বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে তাদের চিহ্নিত করে দমন করতে হবে।
সোমবার ২৫ জুলাই নগর ভবনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবনে মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট এ কথা বলেন। ‘নিরাপদ এবং শক্তিশালী সিটি’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড মেয়রদের সিটি নেটওয়ার্ক সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য মেয়রকে আমন্ত্রণ জানাতে রাষ্ট্রদূত নগর ভবনে আসেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সব দেশেই দেশীয় সন্ত্রাসীরা হামলা করছে। আমরা দেখছি, যারা সন্ত্রাসী কাজ করছে, তারা দেশের বাইরে থেকে আসছে না।লোকজন আমাকে বাংলাদেশে হামলার সম্পর্কে বলেছে। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশি সংস্কৃতি, রাজনীতি ও ধর্ম নয়। কিছু লোক এখানকার মানুষকে এ বিষয়ে প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত করছে।
বার্নিকাট বলেন, গুলশান হামলার পর জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ ভালো ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদকে জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছেন, যা প্রশংসার দাবি রাখে। উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান অভিন্ন ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ ব্যক্ত করেন তিনি।
বার্নিকাট বলেন, সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলায় শহর নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘সেইভ সিটি’ বিষয়ক ওয়ার্ল্ড মেয়রদের একটি কনফারেন্সের আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। এটার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আমরা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছি, বাংলাদেশের মানুষের মনে মৌলবাদী চিন্তা নেই। যে একটা বা দুটি ঘটনা ঘটেছে, তা মোকাবিলায় সরকার সফল হয়েছে। মেয়র বলেন, আমরা এ ধরনের ঘটনার (জঙ্গি হামলা) সম্মুখীন এই প্রথম। তবে আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছি। মানুষের মনে যে ভয় ছিল, তা এখন আর নেই।
বৈঠকে বার্নিকাটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর আন্দ্রেয়া ব্রুলেট রডরিগাজ, রাজনৈতিক কর্মকর্তা ড্যানিয়েল বাকোভ ছাড়াও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল উপস্থিত ছিলেন।
Subscribe to:
Posts (Atom)







