The Bangladesh daily news, news stories and news articles are published mainly of Bangladesh news.
News
All news
Sunday, July 31, 2016
কল্যানপুর অভিযান-বিতর্ক্ ও বিশ্লেষণ
কল্যানপুর জঙ্গী আস্তানায় অভিযান নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছে, সন্দেহ প্রকাশ করছে, তর্ক-বির্তক হচেছ্। কিন্তু আমি এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত নয় যে আসলে কি সন্দেহ। বিতর্ক হচেছে। এটা কেন এমন হলো, ওটা কেন এমন হলো না, এটা কেন বলল, পোষাক কেন এমন ছিল, পিঠে কেন গুলি লাগল, হাতে কেন ছুরি ছিল, জঙ্গিরা কেন বাইরে গ্রেনেড চার্জ করে নাই, রাতে কেন অভিযান হলো না ইত্যাদি আরে কতো প্রশ্ন। আসলে এ প্রশ্নগুলো সৃষ্টি করে প্রশ্নকারীরা আসলে কি বলতে চাইছে বা বুঝাতে চাইছে তা কি কারো কাছে পরিষ্কার কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না। মাথামোটা এবং গোবর গণেশ কিছু বুদ্ধিমান, কিছু জঙ্গীদের সহায়তাকারীরা এটা করছে। এমন লোকেরাতো প্রশ্ন করবেই।
গ্রামে থাকতে ছোট বেলায় মাঝে মাঝে বড়রা যখন কথা বলতেন, তাস খেলতেন বা কোন জায়গায় বসে কথা বলতেন, বা কোন জায়গায় বিচার হচ্ছে সেখান থেকে অনেক উদাহরন শোনতাম। অনেক ভুলে গেছি আর কিছু কিছু আবছা মনে আছে। কোন এক জায়গায় এমনই একটা উদাহরণ শুনেছিলামঃ
গ্রামে কারো নতুন বিয়ে করা বউকে নিয়ে যখন বাড়ী থেকে বের হয় তখন বউকে সমেনে হাটতে দিয়ে স্বামী পিছনে থাকলে লোকে বলে বউকে বেশী প্রধান্য দিচ্ছে। আবার যদি বউ এর সাথে সাথে (সমানে সমান) হাটে তবে বলে দেখ পিরিত কতো বা বউটা কত বেহায়া স্বামীর সাথে সাথে হাটে - সম্মানবোধ বলতে কিছু নাই। এই বউ ছেলেটার মাথা একদিন খাবে। এ রকম নানা কথা। আবার যদি বউকে পিছনে রেঝে হাটে তবে আবার কিছু কিছু লোক বলে যে পিছনে থেকে বউ হারিয়ে যাবে। স্বামটিা কি বলদ। অথবা বউ পিছনে বসে কারে সাথে কথা বলবে বা বলছে। গল্পটির মূল শিক্ষণীয় হলোঃ
সামনে হাটলে দোষ, সাথে হাটলে দোষ আবার পিছেনে হাটলেও দোষ। তো ঐ বউ বা স্বামী যাবে কোথায়? তাই আমি বা আমরা লক্ষ করছি যে কল্যানপুর অভিযান কে আমাদের কিছু বুদ্ধিজীবি (?) মাথা মোটা লোক যারা সমাজে নিজেদের অনেক জ্ঞানী বলে মনে করে তার আসলে কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক তাই-ই মনে হয় বুঝে উঠতে পারে না। আর অযথা একটা তর্ক্ বাধিয়ে দেয় আর দূরে বসে খেলা দেখে আর মিটিমিটি হাসে আর ভাবে কাম একখান কইরা ফ্যালাইছি।
আমাদের দেশের এক শ্রেনীর বুদ্ধিজীবি (?) বা কিছু রাজনৈতিক দল বা নেতারা যা বলছেন এবং কল্যানপুর অভিযান নিয়ে যেসব প্রশ্ন অবতারণা করছেন তা দেখলে ও শুনলে বড় কষ্ট হয়। তারা অভিযান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের অবতারনা করছেন। যেমন এক সময়ের একটি বড় রাজনৈতিক দলের পতিত নেতা তো বলেই বসেছেন যে জঙ্গী মারা গেছে নাকি সাধারন মানুষ তা তিনি ষ্পষ্ট নয়। তার কাছে আমার উল্টা প্রশ্ন ‘যারা মারা গেছে তাদের তো আপনিও দেখেছেন, তাতে কি আপনার মনে হয় হয়েছে যে ওরা জঙ্গি না? আর যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তাদের কারো পরিবার কি দাবী করেছে যে তার ছেলে জঙ্গী না? বা কোন পরিবার কি এখনো পর্যন্ত দাবী করেছে যে তাদের ছেলেকে ঘর থেকে তুলে এনে ওখানে গুলি করে মারা হয়েছে? কই এমন দাবীতো কেউই এখন পর্যন্ত করে নাই। বরং প্রত্যেকেই বা প্রত্যেকটি পরিবারই দাবী করেছে যে তাদের ছেলেরা তাদের পরিবার থেকে বেশ কয়েক মাস থেকেই বিচ্ছিন্ন বা নিখোঁজ। তো জনাব হান্নান সাহেব আাপনার কিভাবে মনে হলো যে যারা মারা গিয়েছে তারা জঙ্গী নয় সাধারণ মানুষ? আপনাকে শুধু বলতে চাই যে যা কিছু বলবেন চিন্তা করে বলবেন হাস্যকর বা জাতি বিভ্রান্ত হয় এমন কিছু বলবেন না। আর এটাও মনে রাখবেন আপনাদের কথায় বেশীর ভাগ মানুষই বিশ্বাস করে না।
কেউ কেউ বলছেন যে এটা একটা নাটক। এতে নাটকের কি আছে তা অন্তত আমার শুধু আমার নয় অনেকেরই বোধগম্য নয়। দয়া করে যদি আপনার নাটকটি কি ষ্পষ্ট করে বলেন তবে হয়তো জাতি বড়ই উপকৃত হবে। নাটক বলতে কি বুঝিয়েছেন? ওখানে কি কোন জঙ্গী ছিল না? নাকি ওদের বাইরে থেকে গুলি করে ওখানে আগে থেকেই রেখে এসেছিল? আসলে নাটক বলতে কি বলতে চেয়েছেন তা জাতির কাছে ষ্পষ্ট নয়। জাতি আপনাদের নাটকের কথা জানতে চায়। আর যদি তা প্রমাণ করতে না পারেন তবে দয়া করে এই বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের জন্যে জাতির কাছে মাফ চান, ক্ষমা চান, আর কান ধরে প্রতিজ্ঞা করেন যে ভবিষ্যতে এমন অর্বাচীন বক্তব্য দেবেন না।
পোষাক নিয়ে কথা বলেছেন। বেশ ভাল কথা। যখন রাত ১২/১২:৩০ টার দিকে প্রথম পুলিশ তল্লাশীতে যায় তখন প্রথম গোলাগুলি হয় এবং একজন পুলিশ আহত হয়। তো যারা প্রশ্ন করেছেন যে জঙগীদের কি রাতের পোষাক কালো পাঞ্জাবী আর পায়জামা কিনা? এটা কোন প্রশ্ন হলো? জঙগীরা কখন কি পড়বে না পড়বে তাকি পুলিশের কাছে লিষ্ট পাঠিয়েছে নাকি? আপনারা যারা প্রশ্ন করছেন তাদের যদি জানা থাকে তবে বলেন যে ওদের তো এখন বা তখন ঐ পোষাক পড়ার কথা ছিল না। তবে কেন ঐ পোষাকে? আর আপনি যদি জানেন যে তারা কখন কোন পোষাক পড়বে তো আপনি বলেন। ওঃ আপনি বা আপনারা যারা প্রশ্ন তুলেছেন তারাতো আর এতো বোকা না যে বলবেন। তাহলেতো আপনাদের রূপ ধরা পড়ে যাবে। তবে আমার বিশ্বাস আপনারা জানলেও জানতে পারেন। তা নাহলে প্রশ্ন করবেন কেন? আর প্রথম আক্রমণের পরে জঙ্গীরা অনেক সময় পেয়েছে। ঐ সময় তারা একই পোষাক সবাই পড়তে পারে। নাকি আপনি মনে করেছেন যে ঐ সময় (প্রথম আভিযানের পরে) তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছে? আপনি/আপনারা (প্রশ্ন সৃষ্টিকর্তারা) মনে করলেও সাধারন মানুষ কিন্তু তা মনে করে না। কারন এরকম পরিস্থিতিতে তারা নিশ্চয় নিজেদের বাঁচাতে চেয়েছে (যার প্রমাণ ২ জনের পলায়নের চেষ্টা), নানা মিটিং করেছে, নানা ফন্দি এঁটেছে, নানা কৌশল আবিস্কার করেছে, অনেক জায়গায় (হয়তো আপনাদের নিকট ফোনও করেছে) আরো কত কি? কাজেই তারা যে ঘুমিয়ে ছিল না বা ঘুমিয়ে সময় কাটায় নাই এটা কিন্তু একটা ৭ বছরের শিশুও বুঝে। তাই তারা ঐ সময়ে একটা নির্দিষ্ট পোষাক পড়তেই পারে এটাই স্বাভাবিক। নাকি আপনার বলতে চান যে পুলিশ তাদের আগে থেকেই পোষাক সরবরাহ করেছিল? আরে পুলিশ যদি এমন একটা পরিস্থিতিতে পোষাক বা কাপড় সরবরাহ করেই থাকে তবে তা করবে সাদা কাপড়। কেন কালো পায়জামা আর জিন্স প্যন্ট সরবরাহ করবে? আর আপনাদের যদি এমনটা মনে হয় তবে বলেন কোন দোকান থেকে পুলিশ তা কিনেছে এবং কখন কিভাবে কার মাধ্যমে সেগুলো জঙ্গীদের কাছে দিয়েছে? চুপ থাকেন কেন? আর প্রম্নকর্তারা যে কেন বুঝে না তা বোধগম্য নয়। আবার এরা নিজেদের জ্ঞানী (?), বুদ্ধিমান (?), বড় বড় রাজনীতিবিদ (?), দেশপ্রেমিক (?) ইত্যাদি মনে করে। তাই এ ধরণের প্রশ্ন তোলা শুধু মাত্র প্রকৃত ঘটনা থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
গুলি কেন পিছনে এমন প্রশ্ন বা বিতর্কও কেউ কেউ তুলেছেন। কে বলেছে যে গুলি শুধু পিছনে? গুলি তাদের অনেক জায়গাতেই আছে। আর তারা বিভিন্ন পজিশনে ছিল এবং এধরনের অভিযানে গুলি যে কোন জায়গাতেই লাগতে পারে। আর ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার কি্ন্তু বলেন নাই যে শুধু পিছনেই গুলি করা হয়েছে। তারপরও যদি পিছন থেকে গুলি করা হয়ে থাকে তাতে সন্দেহের কি আছে? নাকি যারা বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন তারা বলবেন যে অভিযানের সময় কোথায় গুলি লাগবে কোথায় লাগবে না তা প্রেসক্রাইব করা থাকবে? কেন পুলিশকে বার বার প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়? আসলে এরা (প্রশ্নকারীরা) জঙ্গীরা যে মারা গেছে তাতে খুশি না হয়ে উল্টা পথে তাদের কিছু হারানোর ব্যথাই বেশী প্রকাশ পেয়েছেন। আর তারা বেশী খুশি হতো যদি কয়েক ডজন পুলিশ মারা যেত বা ঐ বির্ল্ডিং এ যে সাধারণ বাসিন্দারা ছিল বা আশে পাশে যারা প্রতিবেশী ছিল তাদের মধ্যে অনেকে মারা গেলে খুশি হত। তাহলে তারা তা ফলাও করে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করতে পারত এবং তাদের আলোচনার একটা ভাল পয়েন্ট পেয়ে যেত।
আবার কেউ বলছেন যে কেন তাদের জীবিত ধরা হলো না? এক কথায় উত্তর হলো জীবিত যেটা ধরা সম্ভব হয়েছে সেটা ধরেছে (হাসান)। আর যাদের সম্ভব হয় নাই তাদের বাধ্য হয়ে গুলি করতে হয়েছে এবং তাতে মারা গেছে। তবে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেন যে পৃথিবীতে কয়টা উদহরন বা দৃষ্টান্ত আছে যে জঙগীদের জীবিত ধরা হয়েছে। এইতো সেদিন (কল্যানপুর ঘটনার পরে) ফ্রান্সে গীর্জা ঘরে কয়েকজনকে জিম্মি করেছেল সন্ত্রাসীরা। সেখান থেকেও তো সন্ত্রাসীদের জীবিত আটক করতে পারে নি; জার্মান পারেনি, আমেরিকা পারেনি, ভারত পারেনি। তো এতগুলো দেশ ও তাদের আইন শৃংখলাবাহিনী যখন সন্ত্রাসীদের জীবিত ধরতে পারে নি তখন আপনি কিভাবে আশা করেন যে বাংলাদেশ এ সেটা সম্ভব। বাংলাদেশ এর সোয়াত বাহিনী, পুলিশ, র্যা ব চেষ্টা করেছে যে ক্যাজুয়ালিটি যত কম হয় এবং সন্ত্রাসীরা যেন ঐ বিল্ডিং এ অবস্থানরত সাধারন মানুষের কোন ক্ষতি করতে না পারে এবং এর আশেপাশে যারা বসবাস করত তাদেরও যেন কোন ক্ষতি না হয় এবং তারা সেটা করতে পেরেছে। আর তা করতে গিয়ে যদি কয়েকজন সন্ত্রাসীদের গুলি করা লাগে তা তারা করছে। এতে তো কোন দোষের কিছু দেখি না। তবে হ্যা যদি তাদের জীবিত ধরা যেত তবে হয়তো অনেক তথ্য পাওয়া যেত। কাজেই কেন জঙ্গীদের জীবিত ধরা হলো না এমন গাধামার্কা প্রশ্ন করা মানে আপনারাই আপনাদের তামাশার বস্তুতো রুপান্তরিত করছেন।
আবার কেউ বলছেন যে মাত্র চারটি পিস্তল আর কয়েকখানা সবজি কাটা ছুরি (আপনাদের ভাষায়) দিয়ে এতগুলো আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে কিভাবে সারারাত টিকে থাকা সম্ভব। খুব সহজ হিসাব। আমাদের আইন শৃংখলা বাহিনী তাদের সাথে সারা রাত গোলাগুলি করে নি। কেবল মাত্র তাদের শক্তি পরীক্ষা এবং গোলাগুলি যেন শেষ হয়ে যায় তার জন্য কৌশল অবলম্বন করেছে। তাই তাদের শক্তি শেষ করার জন্য পুলিশ মাঝে মাঝে তাদের গোলাগুলি ও শক্তি শেষ করার জন্য এমন সব কৌশল অবলম্বন করেছে যেন তারা গুলি করতে ও গ্রেনেড ছুড়তে বাধ্য হয়। কারন আমাদের বাহিনী সিদ্ধান্তই নিয়েছিল যে তারা সকালে অভিযান করবে। আর তাদের কাছেতো অনেক গোলাগুলি ছিল তা যেমন হাসান বলেছে ঠিক তেমনি অভিযানের শেষে তাদের নিকট থেকে উদ্ধার করা পিস্তুল, গুলি, ছুরি, রামদা ইত্যাদি দেখেইতো বুঝা যায়। আপনারা এটা একেবারেই ভাববেন না যে আমাদের পুলিশের কোন উপস্থিত বুদ্ধি নাই। বরং আমাদের পুলিশ এর যথেষ্ট উপস্থিত বুদ্ধি আছে যার প্রমান দিয়েছিল হলি আর্টিজন রেস্তোরায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা। যার কিনা পিস্তুল থাকতেও বন্দুক দিয়ে থেমে থেমে গুলি করেছে যেন জঙ্গীরা পালিয়ে যেতে না পারে। অতএব প্রশ্ন অবান্তর। বিতর্ক সুষ্টি করে শুধু নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয়া বিইকি আর কিছুই না।
আর কেউ প্রশ্ন করেছেন যে তারা যখন আল্লাহু আকবর বলেছেন তখন তাদের কাছে মনে হয়েছে যে সেখানে ২০/২৫ জনের কণ্ঠ বলে মনে হয়েছে। তবে আমার যেটা মনে হয় তা হলো প্রথম যখন আল্লাহু আকবর তারা বলেছিল তখন হয়তো আশেপাশের আরো অনেকেই কণ্ঠ মিলিয়েছিল – যা সাধারনত করে থাকি। এর কারন হলো প্রথম অবস্থায় জনগণ বুঝতে পারে নাই যে আসলে জঙগীরাই আল্লাহু আকবর উচ্চারণ করেছে। দ্বিতীয়তঃ বন্ধ জায়গায় যদি কম শব্দও হয় তবে তা খুব বেশী মনে হয়। তৃতীয়তঃ ওখানে হয়তো অন্য মেসে তাদের সহযোগী ছিল বা থাকতে পারে। তারাও হয়তো আল্লাহু আকবর বলায় অংশ নিয়েছিল। তবে সবই অনুমান ভিত্তিক।
কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন যে পুলিশ কর্মকর্তা কিভাবে বললেন যে জঙ্গীরা মনে হয় শিক্ষিত, ভাল পরিবারের যা তাদের পোষাক, কথাবার্তা ইত্যাদিতে বুঝেছেন। আর কেউ কেউ এতে মনে হয় মওকা পেয়েছেন। তবে মনে করি মওকা পাওয়ার কোন বিষয় না। কারন যক্তিবিদ্যায় কিন্তু অনুমান ও অভিজ্ঞতা বলে কিছু বিষয় আছে। তাই উনি যদি অনুমান নির্ভার হয়ে এবং কিছু অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যদি এরকম কিছু একটা বলেন তাতে তো মনে হয় না যে ঐগুলোই সব। তিনি কিন্তু যে কথা দিয়ে বক্তব্য শেষ করেছেন তা হলো আমাদের তথ্য্-উপাত্ত সংগ্রহ চলছে পরে আরো বিস্তারিত জানানো হবে। আর এটা বলার জন্য কোন পিএইডি ডিগ্রী লাগে না। আপনিও একজন কৃষক দেখলে চিনবেন, একজন রিক্সাওয়ালা দেখলে চিনবেন, একজন ফেরিওয়ালা দেখলে চিনবেন, আবার একজন শিক্ষিত লোক দেখলেও চিনবেন। এটা চিনতে খুব বেশী দেয জ্ঞানী, বা লেখাপড়া জানা বা একেবারে চৌকষ হতে হবে তা কিন্তু নয়। আমরা কিন্তু একটা লোকের চেহারা, পোষাক, কথার ধরন (যা তার রাতে বারান্দায় এসে পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেছে) তা থেকেই কিন্তু অনুমান করা যায়। আর আপনি যদি যুক্তিবিদ্যা পড়ে তাকেন তবে জানবেন সব কিছুই অনুমান নির্ভর। যেকোন যুক্তি প্রথমে উপস্থাপন করতে হলে আগে তার একটা অনুমান দরকার। অনুমান ছাড়া কোন যুক্তি দাঁড় করানো যায় না। কাজেই অনুমান, অভিজ্ঞতা, তাদের জ্ঞান দিয়ে বলেছে তাতে সমস্যাটি কোথায়?
যাই-ই হোক। এতক্ষণ প্রশ্ন ও তর্কের বিষয়গুলো আলোচনা করতে চেষ্টা করলাম যা হয়তো খুবই দুর্বল। এ থেকে হয়তো কেউ এমন বড় বা অকাট্য কোন খন্ডন খুঁজে পাবেন না। তারপরও আমার এ রকম মনে হয়েছি তাই লিখছি। তবে আমার ছোট একটা বিষয় মনে শুধু খচখচ করছে। আর তা হলো এত পুলিশ বেষ্টনী, এত কর্ডন, এত আইন-শৃংখলাবাহিনী যারা কিনা পুরো এলাকা ঘিরে ছিল তাদের মধ্যে দিয়ে বা তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে একজন জঙ্গী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো। তবে কি কর্ডনে বা ঘেরাও এ বা ঐ বিল্ডিং বা পাশের বির্ল্ডিংগুলো থেকে তাদের উপর কোন নজর রাখা হয়নি? বলা হয়েছে যে তারা পাশের একটি বির্ল্ডিং এ লাফিয়ে পড়ে ছিল? সেখান থেকে হাসানকে গুলিবিদ্ধ করে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আর অন্যজন পালিয়ে গিয়েছি। পরে জানতে পারলাম যে সেই-ই ছিল ঐ দলের নেতা যে কিনা তাদের সব থাকা খাওয়া ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকত। তো এতে কি মনে হতে পারে না যে কোথাও না কোথাও অথবা কোন না কোন ভাবে ঐ বাড়ী বা এলাকা ঘিরে রাখার মধ্যে কোন দৃর্বলতা ছিল। আমরা তো জানি যে মাত্র একজন পালাতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এটা কি অনুমান করা খুবই অযৌক্তিক হবে যে ঐ সাথে বা ঐভাবে আরো জঙগী কি ওখান থেকে ঐ রাতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে কিনা? যেহেতু একজন পালাতে সক্ষম হয়েছে – সেহেতু আরো হয়তো কেউ পালালে পালাতেও পারে। তবে আমার বিশ্বাস হয়তো আর কেউ-ই পালাতে পারেনি।
তাই পরিশেষে প্রশ্নকারীদের বা বিতর্ক্ সৃষ্টিকারীদের শুধু একটা গল্প বলবঃ এক ব্যাক্তির একটা গাধা ছিল। আর সে একদিন তার বউ (স্ত্রী) নিয়ে দূরে বেড়াতে যাবে বলে স্থির করল। যথারীতি সাথে গাধাটিও নিল। প্রথমে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই গাধার পিঠে উঠল। তাতে দেখা গেল যে কিছুলোক বা যারা দেখছিল তার বলল যে-লোকটা কি নিষ্ঠুর। একটা গাধার পিঠে দু’জন চড়ে যাচ্ছে। এই কথা লোকটা শুনল এবং নিজে গাধা থেকে নেমে শুধু তার স্ত্রীকে পিঠে রেখে আবার চলা শুরু করল। তাতে আবার কিছু লোক বলাবলি করল যে কেমন পুরুষ। স্ত্রীকে গাধায় চড়িয়ে নিচেছ আর নিজে হেঁটে যাচ্ছে। এ কথা শোনার পরে লোকটা এবার তার স্ত্রীকেও গাধা থেকে নামিয়ে দু’জনে হাঁটতে লাগল। আর তাদের সাথে গাধাকেও হাটিয়ে নিতে শুরু করল। এবার গাধার পিঠে কিন্তু কিছুই নেই। তাই এবার আবার যারা দেখছিল অথবা তাদের মধ্যে কিছু লোক বলাবালি করতে শুরু করল যে, লোকটা কি বোকারে! গাধা থাকতে তারা পায়ে হেঁটে যাচ্ছে কেন। বেচার পুরুষ কোন দিকে যাবে। আমাদের সমাজে-দেশে-রাষ্ট্রে, বাড়ীতে, রাজেনৈতিক দলসমূহে কি ঐ রকম লোক নাই? অবশ্যই আছে। কারন তারা কখনো ভালোটা দেখতে চায় না বা পারে না। আমাদের ঐ প্রশ্নকর্তা ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিবিদ, জঙ্গীদের সহায়তাকারীরা কখনোই কোন কাজের মধ্যে ভাল কিছু দেখতে পারে না বা চায় না। তাই আসুন আমরা কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলতে শিখি।
-শৌল বৈরাগী।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment